মে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২১৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্পষ্টভাবে বেশি। প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ৮১ লাখ ডলার।
প্রবৃদ্ধির হার ও অর্থবছরের হিসাব
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ে (১–১৭ মে) রেমিট্যান্স ছিল ১৬১ কোটি ডলার। সেই হিসাবে বছর ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী প্রবাহ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৭ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৫১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৬১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ
অর্থনীতিবিদদের মতে, ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি মূলত বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা কার্যকর থাকা এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার কারণে সম্ভব হচ্ছে। এদিকে মাসিক প্রবাহেও রেকর্ড গড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা এখন পর্যন্ত একক মাসের সর্বোচ্চ। এপ্রিলে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়
বাজার ব্যবস্থাপনায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ডলার ক্রয় কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে একদিনেই ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার কাট-অফ রেট ছিল ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা। সব মিলিয়ে মে মাসে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১০ মিলিয়ন ডলার, আর চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫,৯৮৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ঊর্ধ্বগতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয় কার্যক্রম— দুইটি মিলিয়ে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রবাসী শ্রমবাজারের ঝুঁকি বিবেচনায় এই ধারা কতটা টেকসই থাকবে, তা নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।



