প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ২০০ ডিজিটের দীর্ঘ কোড প্রবেশ করানো নিয়ে চরম গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ভোগান্তির তাৎক্ষণিক কোনো কারিগরি সমাধান নেই দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর হাতে। গ্রাহকদের ‘ধৈর্য ধরে’ এই দীর্ঘ কোড মিটারে প্রবেশ করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত ঝামেলার মুখে পড়তে হচ্ছে। রিচার্জের পর গ্রাহকদের মোবাইলে ২০০ ডিজিটের দীর্ঘ কোড পাঠানো হচ্ছে, যা মিটারে একে একে প্রবেশ না করা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হচ্ছে না। ফলে শত শতবার বাটন চাপতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে কোড প্রবেশের সময় একটি সংখ্যাও ভুল হলে পুরো প্রক্রিয়া আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হচ্ছে, যা গ্রাহকদের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন এই ২০০ ডিজিটের দীর্ঘ কোড?
বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার বিভিন্ন স্ল্যাবে আলাদাভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিটি স্ল্যাবের জন্য পৃথক ২০ ডিজিটের তথ্য মিটারে হালনাগাদ করতে হয়। এই কারণেই সবগুলো স্ল্যাব মিলিয়ে একসঙ্গে ২০০ ডিজিটের একটি দীর্ঘ কোড তৈরি হচ্ছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতেও যদি বিদ্যুতের দাম পরিবর্তন করা হয়, তবে একই ধরনের দীর্ঘ কোড ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এই পরিস্থিতি এড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এটি কেবল মূল্য পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জের সময়ই ঘটে। একবার ২০০ ডিজিটের কোড সফলভাবে মিটারে প্রবেশ করানো হয়ে গেলে, পরবর্তী রিচার্জের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা আবার স্বাভাবিক ২০ ডিজিটের কোডই ব্যবহার করতে পারবেন।
ডিপিডিসির বক্তব্য ও গ্রাহক সহায়তা
এ বিষয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) পরিচালক (আইসিটি) রবিউল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুতের মূল্য স্ল্যাবভিত্তিক হওয়ায় দাম পরিবর্তনের পর প্রতিটি স্ল্যাবের নতুন তথ্য মিটারে সংযোজন করতে হয়। একারণেই দীর্ঘ কোড ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়।”
তিনি স্বীকার করেন যে, এতে গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে। তবে এটি কেবল একবারের জন্যই করতে হবে। গ্রাহকদের সহায়তার বিষয়ে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে কারিগরি টিম গ্রাহকের বাসায় গিয়ে কোড প্রবেশে সহায়তা দিচ্ছে। আজ সকালেও এক গ্রাহককে এমন সেবা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ বিতরণের অর্থ অগ্রিম সংস্থানের জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করে থাকে। এই ব্যবস্থায় গ্রাহককে বিদ্যুৎ বিল অগ্রিম দিতে হয় এবং মিটারের টাকা শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সরকারি ছুটির দিন কিংবা রাতের বেলা টাকা শেষ হলেও সাধারণত বিদ্যুৎ বন্ধ হয় না।



