আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের পর নতুন বছরের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিনেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও কমেছে। উচ্চ মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা, শক্তিশালী ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় সোনার ওপর চাপ বাড়ছে।
স্পট গোল্ড ও ফিউচারসের দাম
বুধবার (১ জুলাই) এশিয়ার লেনদেনে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৭ ডলারে লেনদেন হয়।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দরপতন
শুধু সোনাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। মঙ্গলবার লেনদেনের একপর্যায়ে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৪৩ ডলারে, যা গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে জুন মাসে টানা চতুর্থ মাসের মতো দরপতন হয়েছে সোনার।
ত্রৈমাসিক পতনের রেকর্ড
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুনে শেষ হওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে সোনার দাম প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ কমেছে। ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতন।
পতনের কারণ ও বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমলেও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কারণ সোনা এমন একটি সম্পদ, যেখান থেকে সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে এর চাহিদা কমে যায়।
দীর্ঘমেয়াদী গুরুত্ব অটুট
তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে চাপ থাকলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে সোনার গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে।



