কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসুস্থ এক নেপালি তরুণ স্থানীয় এক ব্যক্তির আশ্রয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাঁর নাম রিয়ান আনসারী (২৪)। তিনি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা বাদল আনসারীর ছেলে। সম্প্রতি একটি ইমো নম্বরের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে।
কীভাবে এলেন বাংলাদেশে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলঙ্গী এলাকা হয়ে রিয়ান বাংলাদেশের চিলমারী এলাকায় প্রবেশ করেন। এরপর ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। একপর্যায়ে ইসলামপুর এলাকার ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের দোকানের সামনে আসেন। তাঁর পরিস্থিতি দেখে মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ তাঁকে বাড়িতে আশ্রয় দেন।
চিকিৎসা ও সেবা
পলাশ আহমেদ বলেন, প্রায় চার বছর আগে রিয়ানকে তিনি অসুস্থ ও অগোছালোভাবে পান। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁকে বাড়িতে নেন। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করেই তাঁকে দেখাশোনা করেন। রিয়ান কথা কম বলতেন। ভাত খেতে চাইতেন না, গোশতের ঝোল দিয়ে মুড়ি মাখানো ও ডিমভাজি খেতে বেশি পছন্দ করেন। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন না। শুরুতে তাঁর ভাষা বুঝতে কষ্ট হতো। তবে ধীরে ধীরে বাংলা বলতে ও বুঝতে পারেন।
কয়েক দিন আগে তিনি তাঁর পরিবারের একটি ইমো নম্বর দেন। ওই নম্বরে যোগাযোগ করে নেপালে তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। রিয়ান এখন নিয়মিত তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি খুবই খুশি এবং পরিবারের কাছে ফিরে যেতে ব্যাকুল হয়ে আছেন।
পরিবারের অবস্থা
রিয়ানের পরিবারের বরাত দিয়ে পলাশ আহমেদ জানান, নেপালে মুসলিম পরিবারে সন্তান রিয়ান আনসারী। মা–বাবা, পাঁচ ভাই ও এক বোন আছে। দুই ভাই কাতারপ্রবাসী। এক ভাই কম্পিউটার প্রকৌশলী। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে রিয়ান মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর পাগলের মতো ঘুরতে থাকেন। ছয় বছর আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। দেড় বছরের বেশি সময় ভারতেই ছিলেন। এর মধ্যে ভারতের পত্রিকায় তাঁর ছবিসহ নিখোঁজ সংবাদও প্রচার হয়।
পলাশ আহমেদ জানান, প্রতিদিন তাঁর পরিবারের লোকজন মুঠোফোনে ভিডিও কলে যোগাযোগ করেন। আজ বুধবার সকালেও কথা হয়েছে। পরিবার রিয়ানকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু তারা বাংলাদেশেও আসতে চাচ্ছে। রিয়ানের সব ধরনের কাগজপত্র তারা পাঠাতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে বাংলাদেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার লোক বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁরা রিয়ানের ছবি, ভিডিও ও সাক্ষাৎকার নিয়ে গেছেন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও চাচ্ছি রিয়ান তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যাক। তাতে আনন্দ পাব, খুশি হব।’
স্থানীয় ও পুলিশের ভূমিকা
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে আমি অবগত হয়েছি।’
একই তথ্য জানিয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, তরুণের বিষয়ে জানতে পেরেছেন তিনি। তাঁর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।



