রাজধানীর বাজারে সবজির দামে স্বস্তি নেই, মুরগির দামে কিছুটা কমতি
সবজির দামে স্বস্তি নেই, মুরগির দামে কিছুটা কমতি

রাজধানীর বাজারে সবজির দামে স্বস্তি নেই, মুরগির দামে কিছুটা কমতি

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দাম এখনো অস্থির অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার বেশি। আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি এখনো মেলেনি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, মুরগির দামে কিছুটা কমতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সবজির বাজারের চিত্র

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আজ সবজির দামের একটি বিস্তারিত চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবট প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও অন্যান্য সবজির দামের মধ্যে রয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • মূলা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা
  • টমেটো প্রতি কেজি ৬০ টাকা
  • ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা
  • লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা
  • মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা
  • কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা
  • কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া

খিলক্ষেত বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ইমরান মাহমুদ বলেন, "গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে, কিন্তু সংসারের বাজার করতে গেলে মোট খরচ খুব একটা কমছে না। একটার দাম কমলে আরেকটার দাম বেশি থাকে।"

আরেকজন ক্রেতা জানান, "টমেটো আর ঢেঁড়সের দাম কমেছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু বেগুন, কাকরোলসহ অনেক সবজির দাম এখনো অনেক বেশি। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছু কিনতে গেলে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে যায়।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাওরান বাজারে আসা সাইদুর বলেন, "প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন হিসাব করতে হয়। আগে যে টাকায় কয়েকদিনের সবজি কেনা যেত, এখন তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। দাম একটু কমলেও সেটা আমাদের জন্য তেমন কাজে আসছে না।"

রহিম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, "বাজারে সামান্য কমার খবর শুনে এসেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখি তেমন সুবিধা হয়নি। বিশেষ করে যাদের বড় পরিবার, তাদের জন্য এই দাম এখনো চাপের।"

বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্টদের মতামত

বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন চাহিদা আছে, কিন্তু সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই সবজির দাম পুরোপুরি কমছে না। সামনে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে এবং পরিবহণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। তবে আপাতত সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সবজির বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।

মুরগি ও অন্যান্য পণ্যের দাম

অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি কিছুটা কমতে শুরু করেছে সোনালি মুরগির দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৫০ টাকায় উঠেছিল।

এছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

বাজারে গেল ঈদে বেড়ে যাওয়া গরুর মাংসের দাম এখনো কমেনি। প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে।

সামগ্রিকভাবে, রাজধানীর বাজারে সবজির দামে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফিরে আসেনি। যদিও কিছু সবজির দামে সামান্য কমতি দেখা গেছে, তবে বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। মুরগির দামে কিছুটা কমতি ইতিবাচক সংকেত দিলেও, গরুর মাংসের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হলে বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হবে।