ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় স্বর্ণের দামে নাটকীয় পতন
বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। এই পরিবর্তনের ফলে, বাজুস স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে।
২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ
নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এটি আগের দামের তুলনায় ৪,৪৩২ টাকা কম। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুসারে, এই দাম মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকে দেশের বাজারে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত একই থাকবে।
অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম
বাজুস অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে:
- ২১ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরিতে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ টাকা
- ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরিতে ২ লাখ ২ হাজার ৮৪৮ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: প্রতি ভরিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৬ টাকা
ভ্যাট সংগ্রহ ও সরকারি নিয়ম
বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যদিও স্বর্ণের দাম কমেছে, তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এই নিয়মটি সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক, যা স্বর্ণ ক্রয়ের সামগ্রিক খরচকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামা বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাজুসের এই সিদ্ধান্তটি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এবং ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ ক্রয়কে আরও সাশ্রয়ী করতে সহায়ক হতে পারে। তবে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে স্বর্ণের দাম আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।
সার্বিকভাবে, এই দাম হ্রাস বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ইতিবাচক সংবাদ বয়ে আনতে পারে।



