রমজান শুরুর আগে বিরামপুরে সয়াবিন তেলের সংকট, দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা
বিরামপুরে সয়াবিন তেল সংকট, দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা

রমজান শুরুর আগে বিরামপুরে সয়াবিন তেলের সংকট, দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শহর ও বিভিন্ন হাটবাজারে রমজান মাস শুরুর আগের দিন বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগেও এই এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেলের সরবরাহ ছিল, কিন্তু রমজানের প্রাক্কালে হঠাৎ করেই বাজারে সব ধরনের তেলের অভাব সৃষ্টি হয়েছে।

পাইকারি বাজারে তেলের অনুপস্থিতি

পুরাতন বাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের কাছে সয়াবিন তেলের কোনো মজুত নেই। দোকানিরা দাবি করছেন, গত কয়েক দিন ধরে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তবে ক্রেতারা সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

দামে আকস্মিক উল্লম্ফন

খুচরা বিক্রেতা সুমন আহমেদ বলেন, "দুই দিন আগে আমি খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। কিন্তু বুধবার পাইকারি বাজারে গিয়ে শুনি তেল নেই। দু–একজনের কাছে সীমিত পরিমাণ পাওয়া গেলেও পাইকারি দাম নেওয়া হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১০ টাকা। ফলে খুচরা বাজারে এখন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।" এই হিসাবে, প্রতি কেজি তেলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ ও অভিযোগ

স্থানীয় ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাজারগুলোতে এখনও সয়াবিন তেল ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বিরামপুরে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। একজন ক্রেতা বলেন, "রমজান শুরুর আগে এমন সংকট সৃষ্টি করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি দরিদ্র মানুষের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।"

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বাজারে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যে পণ্য পেতে পারে।" এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিরামপুর উপজেলার বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট এখনও অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে এবং রমজান মাসে তারা সহজে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।