রমজানের ইফতারির পণ্যে স্বস্তির দাম, পুরান ঢাকার বাজারে দেখা গেছে চিত্র
পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে যাওয়ায় পুরান ঢাকার বাজারে ইফতারির অধিকাংশ পণ্যের দামে স্বস্তি দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে রমজানের পণ্যের দামের চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। রায়সাহেব বাজারের কয়েকটি সবজি ও মুদির দোকানে দেখা গেছে যে, ছোলা ৮৫ টাকা কেজি, মুড়ি খোলা ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, বেসন ১২০ টাকা, পেয়াজ ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা, শশা ৮০ টাকা, কাচামরিচ ১৬০ টাকা কেজি, টমেটো ৬০-৭০ টাকা, ধনিয়াপাতা ৮০ টাকা, আলু ২৫ টাকা এবং প্যাকেট করা মুড়ি ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
দোকানি ও ক্রেতাদের মতামত
রায়সাহেব বাজারের কয়েকজন দোকানি জানান, খোলা মুড়ির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। আগে ৭৫ টাকা হতো, এখন ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। রায়সাহেব বাজারের মাহি স্টোরের দোকানি শাহীন আহমেদ বলেন, “রমজানের কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ছোলার দাম কমেছে। আগে কেজি ১০০ টাকা দিতাম, এখন ৮৫ টাকা করে বিক্রি করছি।”
বেসন কিনতে থাকা সংবাদকর্মী মাসুদ বলেন, “দাম মনে হচ্ছে তেমন বাড়েনি। আর যদি বাড়েও, এসব তো কিনতেই হবে। তবে দাম যেন আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সজাগ থাকা দরকার।”
রায়সাহেব বাজারে এক সবজির দোকানে বেগুনের দাম জিজ্ঞেস করতে থাকা এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী বলেন, “বেগুনের দাম বেড়ে গেছে। আগে ৫০-৬০ টাকা কেজি কিনতাম, এখন ৮০ টাকা হয়েছে।”
খেজুরের দাম ও সরবরাহের অবস্থা
কাঁচা বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম জানতে চাইলে ক্রেতা বিপ্লব বলেন, “রমজানের পণ্যের দাম এখনও সেইভাবে বাড়েনি, যেভাবে প্রতিবছর বেড়ে যায়। যদিও লেবুর দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। তবে আশা করি কমে যাবে।” রায়সাহেব বাজারের কাঁচা বাজারে লেবুর দাম ৭০-৮০ টাকা কেজি দেখা গেছে, যা দুইদিন আগে ১০০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছিল।
এদিকে ইফতারের অন্যতম আইটেম খেজুরের মধ্যে—আম্বর ১ হাজার টাকা, ছুক্কানি ৯০০ টাকা, আজোয়া ৯০০ টাকা, মরিয়ম জাম্বু ৯০০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। সদরঘাটের বাদামতলীর খুচরা ও পাইকারি খেজুর বিক্রেতা তাওয়াককুল এন্টারপ্রাইজের মালিক সুমন বলেন, “খেজুরের সরবরাহ হঠাৎ কমে গেছে, এজন্য কিছু জাতের খেজুরের দাম বেড়ে গেছে। পোর্ট থেকে মাল ডেলিভারি না হওয়ায় এই সমস্যা হয়েছে। জিহাদী, দাবাশ, বড়ই খেজুরের দাম বেড়ে গেছে।”
সামগ্রিক মূল্য পরিস্থিতি
পুরান ঢাকার বাজারে রমজানের ইফতারির পণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ পণ্যের দাম স্থিতিশীল বা কম থাকলেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। দোকানি ও ক্রেতারা আশা করছেন যে, রমজান চলাকালীন দাম আর না বাড়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত থাকে।
