রমজানের প্রাক্কালে সাভারে নিত্যপণ্যের দামে উল্লম্ফন, ভোক্তাদের দুর্ভোগ
রমজানে সাভারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, ভোক্তা উদ্বিগ্ন

রমজানের প্রাক্কালে সাভারে নিত্যপণ্যের দামে উল্লম্ফন

রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকি থাকতেই সাভারের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দামে লক্ষণীয় বৃদ্ধি ঘটেছে। পাইকারী থেকে খুচরা কাচাবাজার পর্যন্ত শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, বেগুন, ধনেপাতা, খেজুরসহ প্রায় সব ধরনের ফল ও শাকসবজির দাম বেড়ে গেছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বাজারে দাম বৃদ্ধির চিত্র

সাভারের নামাবাজারে লেবুর দাম কেজিতে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুইদিন আগে ছিল ১৭০ টাকা। একই বাজারে শসা ১২০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, খিরাই ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫ টাকা এবং বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা আটি দরে। ব্যবসায়ীরা জানান, এসব পণ্যের দাম মঙ্গলবার দুইদিন আগের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেশি।

গেন্ডা কাচাবাজারে লেবুর দাম ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। এখানে টমেটো ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, খিরাই ৮০ টাকা, করলা ১৩০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, বেগুন ও করলার দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে।

মুদি পণ্য ও মুরগির বাজার

মুদি দোকানদারদের তথ্যমতে, চিনি ১০০ টাকা, ছোলা ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, ডাবলি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং গুড় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি। মুরগির বাজারে ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৮০ টাকা, খাসি মুরগি ৩৭০ টাকা এবং লেয়ার ২৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, লেয়ার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে।

খেজুরের দামে প্রভাব

রমজানে ইফতারের জন্য খেজুরের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দামেও প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৯৩১ টন খেজুর আমদানি হয়েছে। ঢাকার বাদামতলী পাইকারী বাজার থেকে আনা বিভিন্ন প্রকারের খেজুর, যেমন আজওয়া, মরিয়ম, মাবরুম, কলমি, আম্বার, শুক্কারি, গাবাস, নাখাল ও বড়ই, সাভারের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। গুণগত মান অনুযায়ী মরিয়ম ও আজওয়া খেজুর ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে এবং মেডজুল খেজুর এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে সাভারেও খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে।

ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

দাম বৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইফতার সামগ্রী কেনায় সংকটে পড়েছে। অনেকে পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করার পরিবর্তে ১০ থেকে ১৫ দিনের বাজার করছেন এবং পণ্য তালিকা কাটছাঁট করছেন। সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, রোজা শুরু হলে দাম আরও বাড়তে পারে। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, বাজারে পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ) সেবাষ্টিন রেমা জানান, বাজারে রুটিন অভিযান চলছে এবং রোজা শুরু হলে অভিযান ও তদারকি বাড়ানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা নিজেদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারে।

বাজার পরিস্থিতির মূল কারণ

সাভারে ঘনবসতি ও রমজান উপলক্ষে পণ্যের চাহিদা প্রায় ৩০ গুণ বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে ক্রেতারা মনে করেন, বাজার মনিটরিংয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা উপজেলা কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, রমজানের প্রাক্কালে সাভারের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর মনিটরিং ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে।