চাটখিল-খিলপাড়া সড়কে সংস্কার শেষ হতেই ধস, স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ
চাটখিল-খিলপাড়া সড়কে সংস্কার শেষ হতেই ধস, কাজ বন্ধ

নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে নির্মাণাধীন চাটখিল-খিলপাড়া সড়কের সংস্কার কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

সড়কটির গুরুত্ব ও বরাদ্দ

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাটখিল থেকে খিলপাড়া হয়ে দত্তপাড়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। গত ৮-১০ বছর ধরে বেহাল দশায় থাকা এই সড়কটির চাটখিল থেকে খিলপাড়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম দফার ঠিকাদার কাজ না করায় পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে ‘জে.বি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রকল্প এলাকা বা কাজের বিবরণ সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড না টাঙিয়েই দায়সারাভাবে কাজ শুরু করে। এছাড়া কার্যাদেশের নিয়ম উপেক্ষা করে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সড়কটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই ছায়ানী টগবাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবাদ ও কাজ বন্ধ

গত বুধবার রাতে খিলপাড়া দক্ষিণ বাজার এলাকায় কাজ করার সময় স্থানীয়রা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান এবং কাজ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে কাজটির অগ্রগতি থমকে আছে। সড়কটিতে চলাচলকারী সিএনজি চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই কয়েক জায়গায় ধস দেখা দিয়েছে এবং প্যালিসাইডিং উঠে গেছে। শিক্ষার্থী আবুল হোসেন ও ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্মাণ কাজে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে এই সড়কটি দুই বছরও টিকবে না। আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঠিকাদারের বক্তব্য

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোরশেদ আলম জানান, এলাকাবাসীর কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যাদেশ অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সরকারি কর্মকর্তার ব্যাখ্যা

নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কটির পাশে অনেক পুকুর রয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে পুকুর পাড় ধসে যাওয়ায় সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে, ধসে পড়া স্থানগুলোসহ সড়কের অবশিষ্ট কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।