ডলার কেনা ও রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভে স্বস্তি
ডলার কেনা ও রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভে স্বস্তি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) পরিসংখ্যানে এই তিনটি সূচক— ডলার ক্রয়, রিজার্ভ এবং রেমিট্যান্স— একসঙ্গে অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

ডলার ক্রয় কার্যক্রম

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫ মে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ দরে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। এর ফলে মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট ডলার কেনা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এই পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫০ লাখ (৫৭৫৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন) ডলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে এবং টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ক্রয় কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাজার থেকে ডলার তুলে নিয়ে রিজার্ভ শক্তিশালী করাই হচ্ছে এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিজার্ভের অবস্থান

এদিকে ৫ মে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে মোট (গ্রস) হিসেবে ৩৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশিত বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। যদিও গ্রস ও বিপিএম৬ হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, তবুও উভয় সূচকেই রিজার্ভের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি

রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। চলতি মাসের প্রথম চার দিনে (১-৪ মে) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের (৩১২ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। শুধু ৪ মে একদিনেই এসেছে ১৪১ মিলিয়ন ডলার।

অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্রও ইতিবাচক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের (২৪ হাজার ৮৪৯ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতামত

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার এবং বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ফলে প্রবাসীরা এখন বেশি পরিমাণে আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভের পুনর্গঠন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির এই ত্রিমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক খাতকে কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমদানি ব্যয় এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা— এই তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন।