কোরবানির লবণের দাম বেড়েছে ৩৭০ টাকা, মজুত থাকার পরও সংকট
কোরবানির লবণের দাম বেড়েছে ৩৭০ টাকা, মজুত থাকার পরও সংকট

এবার কোরবানির ঈদে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে সারা দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন। যদিও মাঠ ও মিল পর্যায়ে মজুত আছে প্রায় নয় লাখ মেট্রিক টন, তারপরও লবণের বস্তায় দাম বেড়েছে ৩৭০ টাকা। গত রমজানে ৭৪ কেজির লবণের বস্তা বিক্রি হয়েছিল ৫৮০ টাকায়, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকায়। হঠাৎ করে ঈদ ঘিরে প্রতি বস্তায় ৩৭০ টাকা বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে জড়িত আড়তদাররা। তাদের দাবি, কোরবানির ঈদে লবণের চাহিদা বাড়াকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে মিল মালিকরা জানিয়েছেন, উৎপাদন কম হওয়ার কারণে দাম বেড়েছে, যা সত্য নয়।

বিসিকের তথ্যে কী বলছে

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিল ও মাঠপর্যায়ে ক্রুড বা ক্রাশ লবণের মজুত আছে প্রায় নয় লাখ মেট্রিক টন। চলতি বছরের কোরবানির ঈদে সম্ভাব্য এক কোটি এক লাখ ছয় হাজার পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হবে।

সরকারের বিনামূল্যে লবণ বিতরণ

এবারও আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ২০ কোটি টাকার লবণ বিতরণ করছে সরকার। গত বছর এসব প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেওয়া হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আড়তদারদের অভিযোগ

বৃহত্তর চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, 'কোরবানির কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের মূল উপাদান লবণ। লবণ ছাড়া চামড়া সংরক্ষণ করা যায় না। গত বছর কোরবানিতে ৭৪ কেজি ওজনের এক বস্তার দাম ছিল ৫৮০ টাকা। এবার প্রতি বস্তার দাম চাওয়া হচ্ছে ৯৫০ টাকা। একটি চামড়ায় ১০ কেজির মতো লবণ লাগে। এক বস্তা সাত-আটটি চামড়ায় দেওয়া যায়। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা চামড়ায় ব্যয় বাড়বে। কোনও কারণ ছাড়াই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন মিল মালিকরা। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি লবণ মজুত রয়েছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিল মালিকদের বক্তব্য

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবীর বলেন, 'আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবার লবণের উৎপাদন কিছুটা কমেছে। যে কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। এতে লবণ চাষিরা কিছু পয়সা পাচ্ছেন। গত পাঁচ-ছয় বছর উৎপাদন বেশি হলেও চাষিরা তেমন লাভ করতে পারেননি। বর্তমানে যে দামটা বেড়েছে তা বেশিদিন থাকবে না। কয়েকদিন পরই কমে যাবে। কারণ লবণের সংকট নেই। বর্তমানে বিসিকের হিসাবে মিল এবং মাঠে নয় লাখ টন মজুত আছে।'

সারা দেশে প্রায় ২৬৫টির মতো লবণ পরিশোধনের মিল রয়েছে জানিয়ে নুরুল কবীর বলেন, 'এর মধ্যে ছয়টি আধুনিক, বাকিগুলো সনাতনী। সেগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরে ৯০টি, পটিয়ায় ৫০টি, কক্সবাজারে ৮০টি এবং বিভিন্ন জেলায় ৪০টি আছে। আধুনিক চারটি লবণ মিলের মধ্যে চট্টগ্রামে দুটি, বাকিগুলো ঢাকায় অবস্থিত।'

চাষিরা কম দাম পাচ্ছেন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী লবণ ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আলী বলেন, 'বর্তমানে মাঠে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। সে হিসাবে ৭০ কেজির বস্তার দাম পড়ছে ৫৬০ টাকা। তবে ভোক্তা পর্যায়ে দাম অনেক বেশি, প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। এবার গত বছরের তুলনায় উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে, তবে পর্যাপ্ত মজুত আছে। সিন্ডিকেটের কারণে চাষিরা দাম পাচ্ছেন না। মিল মালিকরা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আর মাঠপর্যায়ে কিন্তু কম দামই পাচ্ছেন চাষিরা।'

কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের বক্তব্য

কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, 'এবার ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে লবণের চাষ হয়েছে। নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। এবার দেশে লবণের চাহিদা ধরা হয়েছে ২৭ লাখ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। কোরবানিতে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টন প্রয়োজন পড়বে। এবারও সরকার এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোকে ফ্রিতে লবণ বিতরণ শুরু করছে। এজন্য সরকার ২০ কোটি টাকার লবণ কিনেছে। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে লবণের দাম কিছুটা বেড়েছে।'