মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে
বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.১৩ শতাংশ। রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই তথ্যে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
খাদ্যপণ্যের দাম কমার প্রভাব
মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম কমা। মার্চ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.০১ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরাঞ্চলের অবস্থা
গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.০৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.০২ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৩৪ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৯.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরাঞ্চলে মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.০৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৬৮ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭৮ শতাংশে নেমেছে, কিন্তু খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮.৫৭ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৮.৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মজুরি বৃদ্ধি ও প্রকৃত আয়ের অবস্থা
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি মার্চে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.০৬ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি থাকায় শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় পুরোপুরি বাড়েনি। এর ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছালে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৯৩ শতাংশ। ফলে দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছিল ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্টে। বর্তমানে সেই ব্যবধান কমে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হ্রাস দেশের অর্থনীতির জন্য একটি আশাব্যঞ্জক সংকেত। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির সামান্য বৃদ্ধি এবং প্রকৃত আয়ের ধারাবাহিক হ্রাস চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



