জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ন্যূনতম, খাদ্যমূল্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ন্যূনতম: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ন্যূনতম, খাদ্যমূল্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে, তা ন্যূনতম পর্যায়ে রয়েছে এবং খাদ্যমূল্যের ওপর এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এটা আমরা বৃদ্ধি করেছি এটা ঠিক। কারণ বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছি। আমার জানামতে, পৃথিবীর এমন দেশ আমি জানিনা কোনটাতে এই জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির অভিঘাতটা পড়েনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে সবাই কমবেশি মূল্যের সমন্বয় ঘটাতে বাধ্য হয়েছে।’

টাস্কফোর্স সভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স বিষয়ক সভা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ দেশেই এই জ্বালানি তেলের মূল্যের বৃদ্ধি বা হ্রাস এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হয় এটা সরকারের আলাদা করে ঘোষণা দেয়ার দরকার পড়ে না কারণ ওই ফর্মুলাতেই ফেলা আছে যদি আমদানি পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি ঘটে তাহলে সরাসরি এটার প্রতিফলন ঘটবে আবার যদি উল্টাটা ঘটে, মূল্য কমেও যাবে সেটাও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে পরিমাণ জ্বালানি এদেশে আমরা আনি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিমাণ মূল্যের উল্লম্ফন ঘটেছে এই অর্থনীতির ন্যূনতম স্থিতিশীলতার স্বার্থে এটুকু সমন্বয় নেহায়েত প্রয়োজন ছিল।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যমূল্যের পরিস্থিতি

তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ঘটে দুইভাবে—চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেল, সেটার কারণে মূল্যস্ফীতি অথবা কস্ট পুশ ইনফ্লেশন; মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে মূল্যস্ফীতি ঘটে। আমাদের দেশে এই মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩৭ বা ৮ দশমিক ৪ শতাংশের মতো। আমরা দুটি ভাগ করি, ফুড ইনফ্লেশন ও নন-ফুড আইটেম ইনফ্লেশন। আমাদের নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তদের ডিসপোজেবল ইনকামের বড় অংশটা ব্যয় হয় খাদ্যের মূল্য বহন করতে। খাদ্যমূল্য ও ঘর ভাড়াতেই নিম্নবিত্তদের পুরো টাকাটা শেষ হয়ে যায়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারপরেও আমাদের আর্থিক ভিত্তির নিচের দিকে যারা আছেন, প্রান্তিক গোষ্ঠীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের অনেকগুলো সামাজিক কর্মসূচি আছে। তার বাইরে আমাদের টিসিবি আছে, টিসিবির ৭৮ লাখ উপকারভোগী আছে, ৪ কোটি পরিবার, যাদের প্রতি মাসে আমরা স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহ করি।’

মূল্যস্ফীতি নিয়ে চিন্তিত না হওয়ার আহ্বান

মূল্যস্ফীতি নিয়ে চিন্তিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মার্কেট পারফেক্ট না। আমাদের অর্থনীতি ওইভাবে বিকশিত, পরিপূর্ণ একটি অর্থনীতি না। এখানে মূল্যস্ফীতিটা যতটা না বাস্তব কারণে হয়, অনেক সময় স্পেকুলেশনের কারণে হয়। দেখা গেল যে, কোনো একটি পণ্য কেনার জন্য আমরা সবাই একদম অস্থির হয়ে গেলাম। এমন অস্থির হয়ে গেলাম যে, এক বিকালে সেই পণ্য নাই করে দিলাম বাজার থেকে। সাত দিনের জিনিস একদিনে কিনে ফেললাম।’

এ সময় তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। জিনিসপত্রের দাম ও আমদানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত দেখেছি যে, আমাদের আমদানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে।’

সয়াবিন তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ

বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একটু কম আছে। আবার খোলা সয়াবিন পর্যাপ্ত আছে। যেটি হয়তো নির্ধারিত মূল্য থেকে অল্প কিছু বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এই ব্যাপারটি আমরা নজরে রেখেছি এবং এই বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।’

সর্বোপরি, বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ন্যূনতম এবং খাদ্যমূল্যে এর কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ার আশ্বাস দিয়েছেন, পাশাপাশি সরকারের সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।