বাউফলে হস্তান্তরের আগেই একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে ফাটল
বাউফলে হস্তান্তরের আগেই উন্নয়ন প্রকল্পে ফাটল

পটুয়াখালীর বাউফলে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেনতেনভাবে কাজ করায় হস্তান্তরের আগেই একাধিক প্রকল্পে ফাটল ধরেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

৩৩ লাখ টাকার সেতুতে ফাটল

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সড়কে সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বগা ইউনিয়নের উত্তর রাজনগর গ্রামে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় এক মাস আগে সেতুটি নির্মাণ করার পরই একাধিক স্থানে ফাটল তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় হস্তান্তরের আগেই সেতুতে ফাটল ধরেছে। একই অবস্থা সূর্যমণি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বিশ্বাসবাড়ি সংলগ্ন খালের ওপর নির্মানাধীন সেতুর। দীর্ঘদিন সেতুর কাজ ফেলে রাখার পর সম্প্রতি মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এরপরই একাধিক স্থানে ফাটল ধরেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিম্নমানের উপকরণ ও রাতের আধারে ঢালাই

প্রকল্প এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, কাজের সময় অফিসের কোনো কর্মকর্তা আসেননি। রাতের আধারে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ঢালাইয়ে সিলেট স্যান্ডের পরিবর্তে লোকাল বালুর মিশ্রণ এবং সিমেন্ট কম দেওয়া হয়েছে। যে কারণে হস্তান্তরের আগেই ফাটল ধরেছে। এদিকে রাজস্ব তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত নাজিরপুর ইউনিয়নের মারকাযুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন খালে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের ১৫ দিন না যেতেই ফাটল ধরেছে। এছাড়াও ঘাটলার পাশেই ২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়ম না মেনে কালভার্ট নির্মাণ করায় তা এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসছে না।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, কাজের মান তদারকি না করে অফিসে বসে কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট অংকের কমিশন আদায়ের কারণে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করে যাচ্ছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমিশন আদায়ের অভিযোগ

জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে প্রতিটি সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। অপরদিকে রাজস্ব কিংবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এক অফিস সহকারীকে ১৫ শতাংশ ঘুস দিতে হয়। এই কমিশনের কারণে কাজের মান তদারকি হচ্ছে না। ঠিকাদার যেনতেনভাবে কাজ করে বিল তুলে নিচ্ছেন, আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমি সদ্য যোগদান করেছি। প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ১০ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পটুয়াখালী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, "আমার অফিসের কারও কমিশন আদায়ের সুযোগ নেই। প্রকল্পে অনিয়ম হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"