চট্টগ্রামে টানা তাপপ্রবাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। রোববার সকাল থেকেই আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। এ সময় কখনো হালকা, কখনো মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। তবে সন্ধ্যায় দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির দেখা মিলে। এতে করে নগরীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে।
ভোগান্তিতে নগরবাসী
সকালে যেমন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন, সন্ধ্যায়ও বাসাবাড়িতে ফেরার সময় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। দিনভর বৃষ্টিপাতের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নগরীর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়। প্রবর্তক মোড়ের জলাবদ্ধতার কারণে জিইসি ও গোলপাহাড় মোড় এলাকাতেও তীব্র যানজট তৈরি হয়। পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।
সতর্ক সংকেত ও নৌযান নোঙর
চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। সাগর উত্তাল থাকায় এদিন মাছ ধরতে গভীর সাগরে যেতে পারেনি নৌযান। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে এসব নৌযান ও বন্দরের লাইটারেজ জাহাজ কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।



