বাংলাদেশের কৃষির ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাট। বর্তমানে দেশে প্রধানত তিন জাতের পাট চাষ হয় এবং মানসম্পন্ন পাটবীজের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী দেশে বার্ষিক প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টন পাটবীজ প্রয়োজন।
বর্তমান উৎপাদন ও ঘাটতি
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বর্তমানে বছরে মাত্র ২ হাজার টন পাটবীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সক্ষম। এই ঘাটতি মেটাতে ভারতে থেকে বার্ষিক প্রায় ৪ হাজার টন পাটবীজ আমদানি করতে হয়, যাতে খরচ হয় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনা
এই পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাটবীজ আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএডিসি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে।
বিএডিসির চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে চার বছরব্যাপী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। এর আওতায় দেশের ১২টি নতুন জেলায় ১২টি চুক্তিভিত্তিক পাটবীজ চাষ অঞ্চল স্থাপন করা হবে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ উৎপাদন বছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালে পাটবীজ উৎপাদন ২ হাজার ২১০ টন, ২০২৭-২৮ সালে ৩ হাজার ১৫০ টন এবং ২০২৮-২৯ সালে ৪ হাজার ৪০০ টনে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৯-৩০ সাল থেকে উৎপাদন স্থায়ীভাবে ৫ হাজার টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশীয় চাহিদার সমান।
প্রত্যাশিত ফলাফল
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করলে আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে কৃষকরা কম দামে মানসম্পন্ন পাটবীজ পাবেন। এই উদ্যোগ দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।



