রাজশাহীর দুর্গাপুরে পান বরজে অগ্নিকাণ্ড: চাষীদের ৭ লাখ টাকার ক্ষতি
দুর্গাপুরে পান বরজে অগ্নিকাণ্ড, চাষীদের বড় ক্ষতি

রাজশাহীর দুর্গাপুরে পান বরজে অগ্নিকাণ্ড: চাষীদের ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় দুটি পান বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যাতে চাষীদের প্রায় দুই বিঘা জমির পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় চাষীরা প্রায় সাত লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন, যা তাদের ঈদের কেনাকাটা ও চৈত্র মাসের ভালো দামের আশাকে ব্যাহত করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও সময়

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের পারিলা গ্রামের বাগমারা বিলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় এলাকার মসজিদে এশার নামাজ শেষে তারাবির নামাজও শেষ পর্যায়ে ছিল। এসময় স্থানীয় লোকজনের আগুন-আগুন চিৎকারে সবাই এসে দেখে পানের বরজে আগুন জ্বলছে।

লোকজন যে যার মতো করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিসের ডিউটিরত ফায়ারকর্মী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আগুন নিভে যাওয়ার খবরে আমরা রাস্তা থেকে ফিরে আসি।’

ক্ষতির পরিমাণ ও চাষীদের অভিযোগ

আগুনে উপজেলার রসুলপুর এলাকার নজরুল ইসলামের এক বিঘা ও পারিলা গ্রামের গোলাম নবী ১৮ কাঠা জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুই পান চাষীর দাবি, তাদের প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা আগামী ঈদের কেনাকাটা ছাড়াও চৈত্র মাসে ভালো দামের আসায় পানগুলো রেখেছিলেন, কিন্তু তাদের চোখের সামনে পানগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের অভিযোগ, পুকুর খননের জমি না দেওয়ায় শত্রুতা করে একটি পক্ষ পান বরজে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি এবং পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। এখনো বলা যাচ্ছে না কিভাবে আগুন লেগেছে পানের বরজে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এই ঘটনা স্থানীয় কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে পান চাষীদের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির দিকটি উল্লেখযোগ্য। পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।