জয়পুরহাটে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে কৃষকের সরিষাখেত কর্তনের অভিযোগ
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এক কৃষকের জমিতে সরিষাখেত কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পারিবারিক জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার বিবরণ
গত শনিবার কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কৃষক মোমিন ইসলাম পাঁচশিরা বাজারের মৃত গোলজার রহমানের ছেলে। তিনি তার প্রতিপক্ষ চাচাতো ভগিনীপতি মেহেদী মাছুম ও জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়াসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন: কালাই কৃষি ব্যাংকপাড়ার আব্দুল জলিলের ছেলে মেহেদী মাছুম, জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়া, বেগুনগ্রামের আব্দুল জলিল, মাদারপুর গ্রামের আলিফ হোসেন, ঝামটপুর গ্রামের আমিনুর ইসলাম, তালোড়া বাইগুনী গ্রামের ইমন মিয়া, দুর্গাপুর গ্রামের সৌরভ হোসেন এবং মাদাপুর গ্রামের ইমন হোসেন। তারা সকলেই যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পারিবারিক বিরোধের পটভূমি
ভুক্তভোগী কৃষক মোমিন ইসলামের বাবার মৃত্যুর পর থেকে পরিবারে চাচাদের সঙ্গে জমাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তার বড় চাচা আফছার আলীর মেয়ে জামাই মেহেদী মাছুম এই জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন, এবং প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে।
মোমিন ইসলাম জানান, "আমার বাবারা চার ভাই। আমার বাবা ২০১১ সালে মারা যান, এবং বড় চাচা ২০২৪ সালে মারা যান। এরপর ছোট চাচা আফছার আলী পৃথক হন, কিন্তু আমরা সবাই যৌথ পরিবারেই রয়েছি। জমিজমা নিয়ে তার সঙ্গে বিরোধ চলছে। গত শনিবার তার মেয়ে জামাই ফিতা মিয়াসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ১৫-২০ জনকে নিয়ে আমার জমিতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আধপাকা সরিষাখেত কেটে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।"
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযুক্ত চাচাতো ভগিনীপতি মেহেদী মাছুম সরিষাখেত কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "ওই জমি আমার শ্বশুর আফছার আলীর। মোমিন ইসলাম জোরপূর্বক জমি দখল করে চাষাবাদ করছে। আমরা ন্যায্য ভূমি ফেরত চাই, এবং শ্বশুর কোনো বিবাদ চান না।"
অন্যদিকে, জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি মেহেদী মাছুমের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলাম শুধু দুই পক্ষকে ডেকে মীমাংসার জন্য। সরিষা কাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।"
পুলিশের তদন্ত
কালাই থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে থেকে কেটে আনা সরিষা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।" পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরিষা উদ্ধার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, এবং কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও, জমি বিরোধের জটিলতা এ সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে।
