কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তায় আনার পরিকল্পনা, চালু হচ্ছে ‘এগ্রিকালচার কার্ড’
কৃষকদের সরাসরি সহায়তা, চালু হচ্ছে এগ্রিকালচার কার্ড

কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তায় আনার পরিকল্পনা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতি শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে প্রকৃত কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। রবিবার সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদীতে কাপলাতোলি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি।

কৃষকের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কৃষকের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া জাতীয় অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি নতুন ‘এগ্রিকালচার কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি সার, বীজ ও সেচ প্রণোদনা প্রদান করবে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকের ন্যায্য মূল্য

তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘কৃষি বাংলাদেশের প্রাণশক্তি। কৃষক যখন তার উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে, তখনই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’

উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব

উচ্চমানের বীজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, ‘নিম্নমানের বীজের কারণে কৃষকরা প্রায়ই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। যদি উন্নত জাতের বীজ পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ করা হয়, তাহলে একই জমিতে অনেক বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।’

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে অনেক কৃষক এখনও ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। ‘কৃষকদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি শ্রম ও সময় দুটোই বাঁচাবে, যা চাষাবাদকে আরও লাভজনক করে তুলবে। আধুনিক প্রযুক্তি চাষাবাদের সাথে একীভূত করতে হবে,’ বলেন তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি

তাঁর বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে মন্ত্রী স্বপন জোর দিয়ে বলেন যে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী করা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, শুধু উৎপাদনই যথেষ্ট নয়; সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক ফসল সংরক্ষণ প্রযুক্তিও কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এটি অর্জনের জন্য তিনি মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা আরও তীব্র করার নির্দেশ দেন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার কৃষি খাতের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায়, যেখানে প্রত্যক্ষ সহায়তা ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণ কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।