কৃষিমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: সরকারি সুযোগ-সুবিধা বর্জন
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা, সরকারি গাড়ি এবং জ্বালানি ভাতা গ্রহণ করবেন না। এই ঘোষণা তিনি দিয়েছেন শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায়।
ব্যক্তিগত সম্পদে চালিত হবে মন্ত্রীর দায়িত্ব
মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, "মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আমি নিজের গাড়ি এবং নিজের টাকায় কেনা তেল ব্যবহার করছি। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি না, তেলের খরচও নিই না। যতদিন মন্ত্রী থাকব, ততদিন সরকারি গাড়ি ব্যবহার করব না। এ ছাড়া আমি সরকারি বেতন-ভাতাও নেব না।" এই সিদ্ধান্তটি তিনি তার সরকারি দায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকার ও জনসেবার মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কৃষক থেকে মন্ত্রী: কৃষি উন্নয়নের অঙ্গীকার
আমিন উর রশীদ ইয়াছিন নিজেকে একজন কৃষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, "আমি একজন কৃষক, আমি ভালো করেই জানি কীভাবে ধান ফলাতে হয়। সমৃদ্ধ খাদ্য ভান্ডার গড়ে তুলতে আমরা কাজ করব। আগামীর বাংলাদেশ হবে বাক স্বাধীনতা এবং সমৃদ্ধির।" তিনি দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের আগমনকে স্বাগত জানান এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের কাজের প্রতিশ্রুতি দেন।
কুমিল্লার উন্নয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা
মন্ত্রী কুমিল্লার কৃষি উন্নয়নে ড. আখতার হামিদ খানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, "সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে কুমিল্লা অঞ্চলে ড. আখতার হামিদ খান সর্বপ্রথম কৃষিকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছেন। কৃষিতে আখতার হামিদ খান উদ্ভাবিত ‘কুমিল্লা মডেল’ এখনো দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আমরা সারাদেশের কৃষি উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপনে তার ভূমিকা ছিল এবং বর্তমানে অঞ্চলটিতে শিল্প বিপ্লবের মতো পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি বলেন, "কুমিল্লায় এক প্রকার শিল্প বিপ্লব হয়েছে, অনেক কারখানা হয়েছে। এর অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।"
কুমিল্লার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রী কুমিল্লার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা এবং কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, "কীভাবে আমার স্ব স্ব বিভাগে কাজ সঠিকভাবে করতে পারি সেজন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনারা সহযোগিতা করলে আমি ভালো কিছু করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।"
উপস্থিতি ও সমর্থন
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইউমসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সমর্থন ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিনের এই ঘোষণা সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য একটি নৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার এই সিদ্ধান্ত কৃষি উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতি তার গভীর প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
