কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে ধরা পড়ল ২৭ কেজির বাঘাইড় মাছ
চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ২৭ কেজির বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে

ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে ধরা পড়ল ২৭ কেজির বাঘাইড় মাছ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের কাচকোল এলাকায় জেলের জালে একটি বিরাট বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে। মাছটির ওজন প্রায় ২৭ কেজি, যা স্থানীয় বাজারে উল্লেখযোগ্য আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে এবং মাছটি দ্রুত বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

মাছের বিক্রি ও বাজার মূল্য

মাছটি প্রথমে উপজেলার থানাহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়। বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. সাজু মিয়া উন্মুক্ত ডাকে মাছটি কিনে নেন। পরে বিকালে উপজেলার পাম্পমোড় এলাকায় তিনি মাছটি কেটে খুচরা বিক্রি করেন। মোট ৩৭ হাজার ৮০০ টাকায় এই বাঘাইড় মাছের বিক্রি সম্পন্ন হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও দর্শকদের ভিড়

মাছটি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উৎসুক জনতা ভিড় জমায় মাছটি দেখতে। এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ী সাজু মিয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে প্রায়ই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে, যার মধ্যে বাঘাইড় ও পাঙ্গাস উল্লেখযোগ্য।

মৎস্য বিভাগের পদক্ষেপ ও অভয়াশ্রম প্রকল্প

চিলমারী উপজেলার মৎস্য অফিসার মো. বদরুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, এই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন এলাকায় বড় মাছ ধরা পড়ার ঘটনা বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এমন মাছ ধরা পড়লে জেলে ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভবান হন। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকায় এ ধরনের মাছের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা নিরাপদে বংশ বিস্তার করতে পারে এবং নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়।

এই ঘটনা কুড়িগ্রামের মৎস্য শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে মাছের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়। ব্রহ্মপুত্র নদের পরিবেশগত অবস্থা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আরও মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ইঙ্গিত করে।