কৃষি খাতের উন্নয়ন ছাড়া অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে না: মন্ত্রী আমিন উর রশীদ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই বাস্তবতায় কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় অর্থনীতির ভিত মজবুত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কৃষি খাত শক্তিশালী হলেই মজবুত হবে জাতীয় অর্থনীতি।
কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার আর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় সহযোগিতাই এ লক্ষ্য অর্জনের প্রধান শর্ত।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো কৃষক পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমেই দেশের সর্বাধিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। তিনি বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের মাঝে মাটির স্বাস্থ্য, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, মাটির সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত করা গেলে সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব এবং এতে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত একজন কৃষক। কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে উন্নয়ন
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত পূর্বে পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের সর্বশেষ নীতিগত দিকনির্দেশনার অংশ।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং এর সুফল হিসেবে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে।
কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও গোমতী নদী রক্ষা
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা তার অগ্রাধিকার। গোমতী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। অবৈধভাবে এক ইঞ্চি মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
