সিরাজগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষে ব্যাপক সাফল্য, প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়
সিরাজগঞ্জে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়

সিরাজগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষে ব্যাপক সাফল্য

সিরাজগঞ্জ জেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষে সাফল্য পাওয়ায় দিন দিন এ চাষের পরিধি বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন মাঠ এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে, যা প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। ফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন, মাঠগুলো হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থান।

জেলায় সূর্যমুখী চাষের পরিসংখ্যান

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় আড়াই হেক্টর জমি রয়েছে, পাশাপাশি কাজীপুর, চৌহালী, কামারখন্দ, শাহজাদপুর, বেলকুচি, তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলায়ও চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি গাছে একটি করে ফুল আসে এবং বীজ বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। হেক্টর প্রতি ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠছে।

কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও আশাবাদ

সদর উপজেলার মেছড়া চরের কৃষক আব্দুল গনি বলেন, ‘আমি সারাবছর ধান, গম ও সবজির চাষ করি। গত দুই বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছি। এবারও ১ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ফুলে ফুলে ভরে গেছে আমার ক্ষেত, প্রতিটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। আশা করি, এবারও লাভের মুখ দেখব।’

চৌহালী উপজেলার ওমরপুর চরের কৃষক আলতাফ জানান, ‘যমুনার চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমি পতিত পড়ে থাকে। আমার ৩ বিঘা জমিতে এবার সূর্যমুখী চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রতি বিঘা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভের আশা করছি।’

কাজীপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা গ্রামের ফুল চাষি মজিদ সরকার বলেন, ‘আগে ধান, গম ও ভুট্টা চাষ করতাম, খুব বেশি লাভ হত না। গত পাঁচ বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছি। ধান-গমের তুলনায় এটি বেশি লাভজনক। আগামীতেও আরও বেশি চাষে আশাবাদী।’

কৃষি কর্মকর্তাদের মতামত

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. নাসিম হোসেন জানান, ‘সদরে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখী ফুলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এবছর আড়াই হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলে চাষের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।’

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. মনজুরে মাওলা জানান, ‘জেলা জুড়ে সূর্যমুখী চাষের জন্য জমি উপযোগী। এবছর ২০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখা যাচ্ছে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’

সূর্যমুখী চাষের এই সাফল্য কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় দৃশ্য হয়ে উঠেছে।