শ্রীমঙ্গলে লেবুর দাম আকাশচুম্বী, হালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১৫০ টাকায়
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবু এখন দুষ্প্রাপ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে আকৃতিভেদে হালি লেবু ৬০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এই লেবু ৪০-৫০ টাকা হালিতে পাওয়া যেত, কিন্তু রমজানে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতারা চাপের মুখে পড়েছেন।
বাজারে লেবুর সরবরাহ হ্রাস
আজ বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল বাজার ও কয়েকটি আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাগান থেকে জিপগাড়ি ও ঠেলাগাড়িতে করে অল্প পরিমাণ লেবু বাজারে আসছে। আড়তদারেরা তা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন, তবে ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। বর্তমানে বড় আকৃতির লেবু ১৫০ টাকা হালি, মাঝারি ৮০-১২০ টাকা এবং ছোট আকৃতির লেবু ৬০-৭০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতাদের সংকট
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়তেই লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিটি লেবু পাইকারি কিনতে হচ্ছে ১৮ থেকে ৪৫ টাকায়। পরিবহন, শ্রমিক ও বাজার খরচ যোগ করে তাঁদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে তাঁদের আশা। রমজানের ইফতারে লেবুর শরবতের চাহিদা বেশি থাকায় ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনছেন।
ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
বাজারে লেবু কিনতে আসা হুসাইন মিয়া বলেন, ‘রমজানে লেবু ছাড়া চলে না। কিন্তু বড় লেবুর হালি ১৫০ টাকা। অনেক ঘুরে ১২০ টাকায় দুই হালি কিনেছি। এই দাম থাকলে লেবু খাওয়া বাদ দিতে হবে।’ ইমরান শেখ নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে লেবু দেখলাম, কিন্তু দাম খুব বেশি। লেবু ছাড়া এখন চলে না, তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।’
ব্যবসায়ীদের অবস্থা
শ্রীমঙ্গল বাজারের খুচরা বিক্রেতা শান্ত দাশ বলেন, ‘পাইকারিতে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। গতকাল যে দামে কিনেছি, আজ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আড়তে লেবু পাওয়া যায় না।’ আরেক বিক্রেতা রমজান আলী জানান, দাম বাড়ায় ক্রেতারা কম কিনছেন। ভরা মৌসুমে দাম পাওয়া যায় না, আর এখন সিজন না থাকায় দাম বেশি।
খরাজনিত ফলন হ্রাস
বাজারের এই চিত্রের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ খরা। লেবুবাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে নতুন করে ফুল ফুটলেও পানির অভাবে অনেক ফুল ঝরে যাচ্ছে। যেসব বাগানমালিক সেচ ও সারের ব্যবস্থা করছেন, তাঁরা সীমিত ফলন পাচ্ছেন। লেবুর বাগানমালিক অনিরুদ্ধ সেনগুপ্ত বলেন, ‘এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন খুব কম। পানির অভাবে ফুল ঝরে গেছে। স্বাভাবিক ফলনের চার ভাগের এক ভাগও হয়নি। মোটর চালিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, সারের দামও দ্বিগুণ। ভরা মৌসুমে আমরা ন্যায্য দাম পাই না, আর এখন সিজন নেই, তাই বাজারে দাম বেশি হলেও বাগানে লেবু নেই।’
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
আরেক বাগানমালিক জসিম মিয়া বলেন, ‘ভরা মৌসুমে প্রতিটি গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু ধরলেও এখন অনেক গাছে ৩-৫টির বেশি নেই। ১০০ লেবু বাজারে পাঠাতে আমাদের পুরো বাগান ঘুরতে হচ্ছে।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়। দীর্ঘদিনের খরায় ফলন কমেছে। বাগানমালিকদের সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি দেওয়া ও গাছের গোড়ায় সার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
