টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওড় অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটলেও বর্তমানে পানিতে নিমজ্জিত ধান কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার হাওড়ে এ পর্যন্ত বোরো ধান কাটা হয়েছে ৬৩ শতাংশ। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ৭ শতাংশ জমির ফসল। এখনও কাটা বাকি আছে ৩০ শতাংশ ধান। সোমবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। হাওড়ের একমাত্র ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের চিন্তার শেষ নেই।
ফসলের ক্ষতির পরিমাণ
কিশোরগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে অষ্টগ্রাম, মিটামইন, ইটনা, নিকলি, ভৈরবসহ বিভিন্ন উপজেলায় রোববার পর্যন্ত ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বৈশাখের শুরুতে কৃষকরা পাকা ধান হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কাটা শুরু করলেও মোট আবাদের ৫২ শতাংশ ধান ভালোভাবে কাটা সম্ভব হয়েছে। ১১ শতাংশ ফসল বৃষ্টির মধ্যে কাটা হয়েছে এবং ৭ শতাংশ ধান বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। এখনও হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে রয়েছে।
শ্রমিক সংকট ও কৃষকদের দুর্দশা
জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। হাতে কাটতে হলে শ্রমিকের প্রয়োজন। কিন্তু হাওড়ে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। এখনও ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা বাকি। প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা নিজেদের পরিবারের লোকজন নিয়েই ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
অষ্টগ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া বলেন, 'বৃষ্টির কারণে আমার ১০ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ৫ বিঘা জমির ধান কেটেও শুকাতে পারিনি, ফলে ধান গেরা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সারা বছর কী খাব, সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, ভেবে পাচ্ছি না।'
মিটামইনের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, 'শ্রমিক সংকটের কারণে আমি ধান কাটতে পারছি না। জমিতে পানি উঠেছে, তাই হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটা সম্ভব নয়।' ভৈরবের কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, 'বৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে।' ইটনার কৃষক মধু মিয়া বলেন, 'বৃষ্টি আমাদের ফসল কেড়ে নিল। এখন সারা বছরের খাবার ধান ঘরে তুলতে পারব না। আমার ৪ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ৩ বিঘার ফসল কোনো রকমে কেটেছিলাম। কীভাবে সারা বছর সংসার চলবে, তা ভাবছি।'
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, 'জেলায় এবার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ ফসল কাটা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এখনও ৩০ শতাংশ ফসল কাটা বাকি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা বিপাকে আছেন। এক সপ্তাহ রোদ থাকলে হাওড়ের বাকি ফসল কাটা শেষ হবে।'



