অতিবৃষ্টিতে হাওরের ধান নষ্ট, কৃষকেরা দিশেহারা
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে দেশের বিভিন্ন হাওরে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকেরা আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন, কিন্তু রোদের অভাবে তা শুকানো যাচ্ছে না। ফলে ধান পচে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে
জুড়ী উপজেলায় রোদের অভাবে ধান শুকানো যাচ্ছে না। অনেক কৃষকের ধান থেকে চারা গজিয়ে ফেলেছে, যা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে পানির নিচে থাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা। কালনীগড় এলাকায় দেখা গেছে, বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটছে শ্রমিকরা।
সুনামগঞ্জের হাওরে
দেখার হাওর, সুনামগঞ্জে বৃষ্টির কারণে মাড়াই করা ধান শুকানো যায়নি। স্তূপ করে রাখা ধান পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে। নূরজাহান বেগম নামের এক নারী সেই পচা ধান দেখাচ্ছেন। হাওরের উঁচু অংশেই এখন কোমরসমান পানি। সেই পানির মধ্যে দাঁড়িয়েই ধান কাটছেন কৃষকেরা।
গাজীপুরের শ্রীপুরে
ফাওগান, শ্রীপুর, গাজীপুরে পানিতে তলিয়ে গেছে বিলের পাশে লাগানো পাকা ধানখেত। বৃষ্টিতে ভিজে সেই ধান সংগ্রহ করছেন কৃষক। পানি বাড়ায় ধান কাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে
কিশোরগঞ্জে শ্রমিকসংকটে ধান কাটা নিয়েও সংকটে রয়েছেন কৃষকেরা। বড়াটিয়া হাওর, করিমগঞ্জে বাড়ির শিশুরাও ধান কাটার কাজে হাত লাগাচ্ছে। পানি বাড়ছে, মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। পরিবারের ছোট–বড় সবাই মিলে আধা পাকা ধান কেটে নৌকায় করে ফিরছেন বাড়িতে।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে
টাঙ্গুয়ার হাওরের পশ্চিমের চরে আবাদ করা চিনাবাদামও নষ্ট হচ্ছে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে। তাই দ্রুত বাদাম তুলে ফেলছেন কৃষকেরা। টাঙ্গুয়ার হাওর, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জে কৃষকেরা বাদাম সংগ্রহের কাজ করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে
সোনাতলা, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বৃষ্টির মধ্যেই সেই ধান কাটা চলছে, তা আনা হচ্ছে কৃষকের বাড়িতে। কিষান-কিষানি নৌকায় করে ধান নিয়ে আসছেন।
সব মিলিয়ে অতিবৃষ্টি ও পানি জমে থাকায় হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।



