‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানির সময় এজলাস কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়েন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে এ ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য কারাগারে থাকা সাবিনা আক্তার তুহিনসহ মোট ৩৪ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের এজলাসে তোলা হয়। পরে নারী আসামিদের এজলাসের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং শুনানি শুরু হয়।
অসুস্থতার মুহূর্ত
শুনানির একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবিনা আক্তার তুহিন। পরে তাকে একটি বেঞ্চে বসানো হয় এবং মাথায় পানি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি পানি পান করেন এবং এক আইনজীবীর দেওয়া চকলেট খান। এজলাসে বসেই তিনি তার আইনজীবীর কাছে খাবার ও শারীরিক কষ্টের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমারে যা করার করুক। আর যেন আমাদের না আনে। সেই ভোর বেলা নিয়ে আসা হয়েছে। খারাপ লাগছে। মনে হয় ডায়াবেটিস নেমে গেছে। প্রেশার বাড়লো না কমলো তা বুঝবো কেমনে। কোনও আইন নাই, রুলস নাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগী। ভোর বেলা নিয়ে আসে। কলা আর রুটি দেয়। কলা খেতে পারি না, নষ্ট। আমরা আর পারি না। সকাল থেকে বসায় রাখছে।” পরে তার স্বজনরা তাকে পানি ও চকলেট দেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আইনজীবীর বক্তব্য
তুহিনের আইনজীবী পলাশী মজুমদার বলেন, তার মক্কেল একাধিক রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে আদালতে রাখা হয় এবং পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অব্যাহত রাখেন। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বিবরণ
উল্লেখ্য, চলমান মামলাটিতে মোট ২৮৬ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪৬ জন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলাটি ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুম মিটিংকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়।



