জাটকা রক্ষায় অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়া চাঁদপুর জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলে মাছ ধরতে নদীতে নেমেছেন। আবার অনেকে সেরে নিচ্ছেন নদীতে নামার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ফলে জেলে পাড়াগুলো এখন সরগরম হয়ে উঠেছে।
নদীতে নামার প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ
অভিযানের শেষ হওয়ার একদিন আগেই নদীতে মাছ ধরতে নেমে পড়েন অনেক জেলে। এমনকি, বাজারেও দেখা যায় রুপালি ইলিশ। তাই জেলে পল্লীতে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাটকা রক্ষার এ অভিযানের ফলে বাড়বে ইলিশের উৎপাদন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস বাজার, পালবাজার ও বড় স্টেশন মাছের আড়তে ঘুরে দেখা গেছে, স্বল্পপরিসরে ইলিশ মাছ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও মতলবের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জেলেদের জাল মেরামত করতে দেখা যায়।
জেলেদের প্রতিক্রিয়া
আনন্দ বাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছি নদীতে নামার জন্য।”
বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম বলেন, “নৌকা ও জাল মেরামত করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন যদি ইলিশ পাওয়া যায় ঋণ দেওয়া যাবে এবং সংসারও চলবে।” একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, “ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় সাতজন কাজ করে। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ, সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল তাতে সংসার চলে না।”
মৎস্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য
মৎস্য কর্মকর্তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার কারণে এ বছর ইলিশের প্রজনন ভালো হয়েছে। ফলে দেশে ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ টন থেকে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছে এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার চার মাসে ১৬০ কেজি চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এবছরই প্রথম জাটকা প্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “অভিযান সফল করতে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ, কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এবার জেলেরা নদীতে নামতে পারেনি। তবে, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জেলে মাছ ধরার চেষ্টা করেছিল তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় এনেছি।”
তিনি বলেন, “গত বছর চাঁদপুরে ইলিশের প্রোডাকশন ছিল ৩৫ হাজার ৪৭২ টন। আশা করছি, এ বছর ইলিশের প্রোডাকশন আরও বাড়বে।”



