বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সন্ধ্যা নদী, সুগন্ধা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে উপজেলার বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার।
নদীভাঙনের বিস্তৃতি
নদীবেষ্টিত এই উপজেলায় যুগের পর যুগ ধরে নদীভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে ভিটেমাটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, বরিশাল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা ও দক্ষিণ ভুতেরদিয়ার নতুন চর ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে ছোট মীরগঞ্জ, লোহালিয়া, রাজগুরু গ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে। সন্ধ্যা নদীর তীরেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভাঙন তীব্র হলে সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হচ্ছে না। বাবুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ভাঙনের কারণে কেদারপুর থেকে এখানে এসে বসতি গড়েছিলাম। এখন আবার সুগন্ধা নদীর ভাঙনে নতুন বসতিও হারানোর শঙ্কায় আছি। নদীতীরবর্তী বাসিন্দা মজিবুর রহমান বাচ্চু সরদার বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে আগের ভিটেমাটি হারিয়ে এখানে এসেছি। সর্বস্ব দিয়ে ঘর করেছি, এখন সেটিও ঝুঁকিতে। দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প প্রয়োজন।
সরকারি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা
এ বিষয়ে বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, নদীভাঙন রোধ এখন অগ্রাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর রক্ষায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।



