রাজশাহীতে তাপপ্রবাহে আম ঝরে পড়া ও পচনের শঙ্কা, চাষিরা দুশ্চিন্তায়
রাজশাহীতে তাপপ্রবাহে আম ঝরে পড়া ও পচনের শঙ্কা

রাজশাহীতে টানা তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির অভাবে অর্থকরী ফল আমের বাগানগুলোতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মাটিতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় গাছ থেকে ঝরে পড়ছে কাঁচা আম; কোথাও কোথাও পচন ও পোকার আক্রমণও দেখা যাচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমচাষিরা।

এপ্রিলজুড়ে প্রচণ্ড গরমে রাজশাহী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ আমবাগানে এখন একই চিত্র। গাছের নিচে পড়ে আছে ছোট-বড় আম। কিছু আম পচে গেছে, আবার কিছু ভালো অবস্থাতেই ঝরে পড়েছে। অনেক গাছে এমন আম দেখা যাচ্ছে, যেগুলো যেকোনো সময় ঝরে পড়তে পারে।

আবহাওয়ার চিত্র

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি মাসে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। ৭ এপ্রিল ১ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং ২৮ মার্চ ৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এরপর আর তেমন বৃষ্টি হয়নি। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং এপ্রিলজুড়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে। ২২ এপ্রিল রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শনিবার সকালে নগরের বুধপাড়া এলাকার একটি আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঝরে পড়া আম। বাগানটির মালিক মো. শাহিন বলেন, খরার কারণে গাছ আম ধরে রাখতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে অর্ধেক আম ঝরে যেতে পারে, যা বড় ক্ষতির কারণ হবে।

চাষিদের দুশ্চিন্তা

পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি মাহবুব ইসলাম বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল, গুটিও ভালো ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের টানা তাপে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আম টিকিয়ে রাখা কঠিন। তিনি বলেন, সেচ দিতে পারলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যেত, কিন্তু জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে তাঁর বাগানের প্রায় ৩০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে বলে দাবি করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পবা উপজেলার পারিলা গ্রামের কৃষক মনির হোসেনের ৩০০টি আমগাছ। এবার ভালো ফলন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাগানে কয়েক দিন ধরে অনেক আম ঝরে পড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে সেচ দিতে বলেছে। এখানে পানির সংকট আছে। বৃষ্টি হলে খুব ভালো হতো।

চারঘাটের মৌগাছি গ্রামের হাসান আলী বলেন, তাঁর চার শতাধিক আমগাছ আছে। বৃষ্টি না হওয়ায় আম ঝরে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, ডিজেলের অভাবে সেচ দিতে পারছেন না।

সেচের ব্যবস্থা করলে ঝরে পড়া কমানো সম্ভব

তবে সব বাগানের চিত্র এক নয়। চারঘাট উপজেলার চাষি হানিফ মণ্ডলের বাগানে ৩০ জাতের প্রায় ৫০০ আমগাছ আছে। তিনি নিয়মিত সেচ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে বলেন, খরায় তিনবার সেচ দিতে পেরেছি, তাই আম ঝরছে না। কিন্তু সেচ না দিলে একই অবস্থা হতো।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর রাজশাহীতে প্রায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার টন।

আম ঝরে পড়ার দুটি প্রধান কারণ আছে বলে জানান রাজশাহী ফল গবেষণাগারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি প্রাকৃতিক—এটি হচ্ছে, গাছে বেশি ফল ধরলে কিছু আম নিজে থেকেই ঝরে পড়ে। অন্যটি হলো পানির অভাব—বর্তমানে খরার কারণে মাটিতে আর্দ্রতা কমে গেছে। এতে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না এবং আম ঝরে পড়ে। সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে এই ঝরে পড়া অনেকটাই কমানো সম্ভব।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, বর্তমানে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। চাষিদের কার্ড করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা জ্বালানি পাচ্ছে। বর্তমান আবহাওয়ায় কিছু আম ঝরে পড়ছে। এগুলো এমনিতেই ঝরে পড়ত। একটি আমের মুকুলে যদি একটি আম থাকে, সেটিই বাম্পার ফলন।