পদ্মা নদীতে ধরা পড়া দুই কাতল মাছের দাম ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া দুইটি বড় কাতল মাছ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছ দুটির ওজন যথাক্রমে ২৫ কেজি ৫০০ গ্রাম এবং ১৭ কেজি। ঢাকার গুলশান এলাকার এক শিল্পপতি মাছ দুটি কিনে নিয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে দৌলতদিয়া একতা মৎস্য আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছ দুটি কেনেন ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার জেলে বাবু সরদার এবং পাবনার ঢালারচরের জামাল প্রামানিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় পৃথক স্থানে জাল ফেলেন। ভোরের দিকে জাল টেনে দেখেন বাবু সরদারের জালে ১৭ কেজি এবং জামাল প্রামানিকের জালে ২৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের কাতল মাছ ধরা পড়েছে।
শনিবার সকালে মাছ দুটি বিক্রির জন্য আড়তে নিয়ে এলে উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়। এ সময় ২৫ কেজি ৫০০ গ্রামের কাতলটি ২১শ টাকা কেজি দরে মোট ৫৩ হাজার ৫৫০ টাকা এবং ১৭ কেজির কাতলটি ১৭শ টাকা কেজি দরে ২৮ হাজার ৯০০ টাকাসহ মোট ৮২ হাজার ৪৫০ টাকায় কিনে নেন চান্দু মোল্লা।
পরে চান্দু মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে মাছ দুটির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করলে ঢাকার গুলশানের এক শিল্পপতি মাছ দুটি কেনার আগ্রহ দেখান। কেজিপ্রতি ১শ টাকা বেশি ধরে ৪ হাজার ২৫০ টাকা লাভে ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায় মাছ দুটি তার কাছে বিক্রি করে ঠিকানা বরাবর বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠিয়ে দেন।
জেলে বাবু সরদার জানান, বর্তমানে পদ্মা-যমুনা নদীতে অনেক বড় মাছ ধরা পড়ছে। ভালো দামে মাছ বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন। তবে জ্বালানি তেলের অভাবে ঠিকমতো নদীতে ট্রলার চালাতে পারছেন না। ঠিকমতো জাল ফেলতে পারলে আরও বেশি মাছ ধরতে পারতেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, পদ্মা-যমুনা নদীর এই এলাকায় মাঝে মাঝেই জেলেদের জালে বিভিন্ন ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ছে। মাছ শিকার করে জেলে ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এই মাছগুলোর জন্য যদি এলাকায় অভয়াশ্রম গড়ে তোলা যেত, তাহলে এরা নদীতে সহজেই বংশবিস্তার করতে পারত। এতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেত।



