রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন অবশেষে আমের ধলতা বা ঢলন প্রথা বন্ধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। এই প্রথা ব্রিটিশ আমল থেকে চালু থাকলেও এখন থেকে ৪০ কেজিতেই মণ হিসাব করে আম বেচাকেনা করতে হবে। গত মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান
আমের মোকামগুলোতে ৪০ কেজিতে মণ হলেও বেচাকেনার সময় ৪৪ থেকে ৫৪ কেজি পর্যন্ত মণ হিসাব করা হতো। এতে চাষিরা ঠকতেন। তারা ৪০ কেজির দাম পেলেও দিতে হতো অতিরিক্ত ৪ থেকে ১৪ কেজি আম। এই প্রথাকে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় মোকামগুলোতে ঢলন বা ধলতা বলা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যমূলক প্রথা বন্ধ করে এখন থেকে ৪০ কেজিতেই মণ হিসাব করতে হবে। চাষিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।
চাষিদের দাবি ও আন্দোলন
আমচাষি ও বাগানিরা গত কয়েক বছর ধরে ৪০ কেজিতে মণ হিসাব করে আম বিক্রির জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। গত বছর বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নির্দেশনা জারি হলেও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে তা কার্যকর হয়নি। এবার মৌসুমের শুরুতে চাষিরা আবারও দাবি জানান।
গত মঙ্গলবারের বৈঠকে রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলার আমচাষি, বাগানি, আড়ৎদার, ফড়িয়া, ব্যাপারী পাইকার, কৃষি বিপণন বিভাগ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কোনোভাবেই আর ঢলন বা ধলতা প্রথা থাকবে না।
বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ
বুধবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে চার জেলার জেলা প্রশাসনকে সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোকামগুলোতে মাইকিং করে এই প্রথা বন্ধে নির্দেশ জারি করা হবে। কেউ সরকারি সিদ্ধান্ত না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনি পদক্ষেপ নেবে।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, পুলিশ এ বিষয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।
চাষিদের প্রতিক্রিয়া
ম্যাঙ্গো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আহসান হাবীব বলেন, এই প্রথা অমানবিক। প্রথা কখনো আইনের বিকল্প হতে পারে না। শুধু আড়তদার, ফড়িয়া ও ব্যাপারীরা লাভবান হন। ক্রেতা-ভোক্তারা কেজি দরেই আম কেনেন।
চাষিরা আশা করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে। তারা আর ঠকবেন না।



