ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় জমে উঠেছে কোরবানিসংশ্লিষ্ট মৌসুমি ব্যবসা। পশু কেনার পাশাপাশি এখন গরুর খাবার, দড়ি, চাটাই, ছুরি, কাঁচি ও তেঁতুল কাঠসহ প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
অস্থায়ী দোকানের ভিড়
ঈদকে ঘিরে বিক্রেতারা বাড়তি চাহিদার সুযোগে বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকান সাজিয়ে বসেছেন। কেউ জীবিকার তাগিদে, আবার কেউ অতিরিক্ত আয়ের আশায় কয়েক দিনের জন্য যুক্ত হয়েছেন এই মৌসুমি ব্যবসায়। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। বিশেষ করে কোরবানির পশু পরিচর্যা ও প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি।
শান্তিনগর মোড়ের দৃশ্য
রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে এমন কয়েকটি অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে গরুর শুকনা খড়, ভুষি, দড়ি, কাঠসহ কোরবানির প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে এই সময়টাতেই বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়।
বিক্রেতা জলিলের কথা
শান্তিনগর মোড়ে দোকান সাজিয়ে বসা বিক্রেতা জলিল বলেন, “ঈদের আগে এই কয়েকদিনে বিক্রি ভালো হলে কিছুটা লাভ থাকে, না হলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।” তিনি জানান, তার দোকানে প্রতি মুঠো শুকনা খড় বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। গরুর দানাদার খাবার ভুষি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। এছাড়া কোরবানির মাংস রান্না বা আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত তেঁতুল কাঠ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
তরুণ উদ্যোক্তা নাজমুল
একই এলাকায় ব্যবসা করছেন নাজমুল নামে আরেক তরুণ। তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের একটি কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত আয়ের জন্য তিনি এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। নাজমুল বলেন, “গরু কেনার পর অনেকেই দুই-তিন দিন বাসা বা গ্যারেজে রাখছেন। এজন্য খাবার, দড়ি, চাটাইসহ এসব জিনিসের চাহিদা বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। লাভও মোটামুটি পাওয়া যাচ্ছে।”
বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দোকান
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শুধু খড় বা ভুষি নয়, কোরবানিকে কেন্দ্র করে ছুরি-কাঁচি ধার দেওয়া, পশু বাঁধার দড়ি বিক্রি এবং অস্থায়ীভাবে চাটাই বিক্রির ছোট ছোট দোকানও বসেছে। বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এই স্বল্প সময়ের মৌসুমি ব্যবসা অনেকের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এই ব্যবসা শুধু ক্রেতাদের চাহিদা মেটায় না, বরং অনেক নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ঈদের সময়ে অতিরিক্ত উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।



