ইঞ্জিনিয়ার চাকরি ছেড়ে কৃষিতে এসে পেঁয়াজ পুড়িয়ে ধ্বংস করলেন
ইঞ্জিনিয়ার চাকরি ছেড়ে কৃষিতে এসে পেঁয়াজ পুড়িয়ে ধ্বংস

চাকরি ছেড়ে কৃষিতে ফিরেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার যুবক। স্বপ্ন ছিল নিজের জমিতে ফসল ফলিয়ে ভাগ্য বদলাবেন। কিন্তু সেই ফসলের দাম জুটলো কেজিতে মাত্র ৬৭ পয়সা। শ্রমের দামটুকুও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের চাষ করা সব পেঁয়াজ পুড়িয়ে ধ্বংস করেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের এক কৃষক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার থেকে কৃষক

সোলাপুরের মোহল তহসিলের বেগমপুর গ্রামের বাসিন্দা লাখান মানে ২০১৬ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন। বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে বেছে নিয়েছিলেন চাষাবাদ। এবার দুই একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন তিনি। সোলাপুরের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে মাত্র ৫০ পয়সা দেখে একটু বেশি দামের আশায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কোলহাপুর কৃষি পণ্য বিপণন কমিটিতে (এপিএমসি) গিয়েছিলেন লাখান।

দামের হতাশা

লাখান জানান, গত ৮ মে তিনি ১০০ বস্তা পেঁয়াজ নিয়ে কোলহাপুরে যান। কিন্তু সেখান থেকে মোট ৩ হাজার ৭০০ টাকা হাতে পান তিনি। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় মাত্র ৬৭ পয়সা। লাখান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘সোলাপুর বাজারে দাম কম দেখে অনেক আশা নিয়ে কোলহাপুর গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে হতাশ হয়ে নিজের জমির বাকি সব পেঁয়াজ পুড়িয়ে দিয়েছি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্য কৃষকের একই দশা

লাখানের মতো একই দশা বার্শির আরেক কৃষকের। তিনি ২৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কোলহাপুরে এসে প্রতি কেজিতে মাত্র ১ রুপি দাম পেয়েছেন। কোলহাপুর এপিএমসির পেঁয়াজ বিভাগের প্রধান মনোজ সালুঙ্খে জানান, ওই কৃষকের পেঁয়াজ নিম্নমানের ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় কোনও ব্যবসায়ী তা কিনতে চাইছিলেন না। শেষ পর্যন্ত কৃষক অনুরোধ করায় কেজি প্রতি ১ রুপি দরে কেনা হয়েছে, যা মূলত আবর্জনার ঝুড়িতেই যাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে

মনোজ সালুঙ্খে বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের পেঁয়াজের দামও কেজি প্রতি ১২-১৩ রুপির ওপরে উঠছে না। যুদ্ধ ও অন্যান্য কারণে রফতানিতে বিধিনিষেধ থাকায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণত বছরের এই সময়ে কেরালাসহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে ব্যাপক চাহিদা থাকে, কিন্তু এবার ব্যবসায়ীরা কোনও অর্ডার দিচ্ছেন না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া