সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য পাইলট পর্যায়ে আনা হয়েছে ‘ডিজিটাল এসএমই লোন’। এর আওতায় ট্রেড লাইসেন্সধারী এমএফএস এজেন্ট ও মার্চেন্টরা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন প্রক্রিয়ায় মাত্র কয়েক মিনিটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি এজেন্ট এই সুবিধা পেয়েছেন এবং পর্যায়ক্রমে সব ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী এর আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।
সাপ্লাই চেইন ফিন্যান্সিং ও করপোরেট লিংকেজ
সিটি ব্যাংক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অ্যাঙ্কর’ হিসেবে যুক্ত করে তাদের ডিলারদের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটালি ডিস্ট্রিবিউটর ঋণ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৪৮ জনের বেশি ডিস্ট্রিবিউটরকে ৩২২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেমি-আরবান ও প্রান্তিক এলাকার মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সরাসরি আমদানির সুবিধার্থে ৫০টির বেশি শাখার মাধ্যমে ‘ছোট এলসি’ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে ছোট উদ্যোক্তারা সরাসরি লেটার অব ক্রেডিট খুলে সাপ্লাই চেইনের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন।
বাজেটের বিশেষ তহবিল বিতরণে প্রস্তুতি
দেশব্যাপী বিস্তৃত ব্যাংক নেটওয়ার্ক ছাড়া তৃণমূলের দোরগোড়ায় তহবিলের অর্থ পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মাসরুর আরেফিন। সিটি ব্যাংক দেশব্যাপী শাখা, উপশাখা এবং ৪৯৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে এই বিশেষ তহবিল সাশ্রয়ী সুদে প্রকৃত প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য কৌশল
সিটি ব্যাংক দেশজুড়ে ৪৯৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৩৩টি ডেডিকেটেড এসএমই ইউনিট অফিসের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় ঋণসুবিধা দিচ্ছে। কৃষকদের জন্য অ্যাগ্রিগেটরের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রান্তিক নারীদের আয়-উৎস তৈরিতে ‘রেমিট্যান্স বেনেফিশিয়ারি ঋণ’ চালু করা হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ গ্রাহকই নারী। এ ছাড়া গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ব্যাংক স্টেটমেন্টের পাশাপাশি শুধু ব্যবসার নথিপত্র ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করেই ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
কটেজ খাতের জন্য কোটা বরাদ্দ
দেশের ৯০ শতাংশ শিল্প-ইউনিট সিএমএসএমই হলেও বড় ঋণগুলো মাঝারিরাই পায়, ফলে কটেজ ও প্রান্তিক খাত প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সংকটে পড়ে। সিটি ব্যাংক ইতিমধ্যে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনে কাজ করছে। ব্যাংকের কটেজ ও ক্ষুদ্রঋণের প্রায় ৯৫ শতাংশই জামানত ছাড়া দেওয়া হয় এবং এর ২৬ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ
সিটি ব্যাংক শুধু পুঁজি নয়, ‘সমন্বিত মেন্টরশিপ মডেল’ নিয়ে কাজ করছে। এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এসআইসিআইপি প্রোগ্রামের আওতায় দেশব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ‘সিটি আলো’ ও ‘উঠান বৈঠক’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ডিজিটাল আর্থিক শিক্ষা পেয়েছেন।



