হবিগঞ্জে বাস চলাচল পুনরায় শুরু, শ্রমিক মারধরের ঘটনায় বন্ধের পর স্বস্তি ফিরেছে
হবিগঞ্জে শ্রমিক মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধের পর অবশেষে পুনরায় চালু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সব রুটে পরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই ঘটনায় কর্মজীবী মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও বাস চলাচল বন্ধ
শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্ট এলাকায় যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে হানিফ পরিবহন ও হবিগঞ্জ–সিলেট এক্সপ্রেস পরিবহনের স্টাফদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বাসটি সিলেট পৌঁছালে হানিফ পরিবহনের চালক ও স্টাফরা হবিগঞ্জ–সিলেট এক্সপ্রেসের এক স্টাফকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ–সিলেট, হবিগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ–মাধবপুরসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকরা।
যাত্রীদের ভোগান্তি ও জরুরি বৈঠক
গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ায় কর্মজীবী মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিকালে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ শ্রমিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সিলেট বিভাগীয় শ্রমিক নেতা মইনুল ইসলাম মোবাইল ফোনে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সমাধানের আশ্বাস দেন।
সমঝোতা ও বাস চলাচল পুনরায় শুরু
আলোচনার পর সমঝোতায় পৌঁছালে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সব রুটেই বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়। সড়কগুলোতে ধীরে ধীরে যান চলাচল বাড়লে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরে। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, "পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য আমরা শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম, পবিত্র রমজান মাসে মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ও সিলেট বিভাগীয় শ্রমিক নেতা মইনুল ইসলাম আমাদের শ্রমিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার আশ্বাস দেওয়ায় পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে।"
এই ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিলেও দ্রুত সমাধানে সক্ষম হওয়ায় যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
