৪০ লাখের বেশি করদাতা ইতিমধ্যে ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, এবং ইতিমধ্যেই ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে এখন পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক করদাতা নিবন্ধিত হয়েছেন।
মাসিক রিটার্ন জমার হার বিশ্লেষণ
এনবিআর-এর প্রদত্ত মাসিক তথ্য অনুযায়ী, ই-রিটার্ন জমার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশদে বলতে গেলে:
- আগস্ট ২০২৫: ২৫১,৭৮৪ জন করদাতা
- সেপ্টেম্বর ২০২৫: ৩০১,৩০২ জন করদাতা
- অক্টোবর ২০২৫: ৪৫৪,০৭৬ জন করদাতা
- নভেম্বর ২০২৫: ১,০৪০,৪৭২ জন করদাতা
- ডিসেম্বর ২০২৫: ৯৭৮,১৯৮ জন করদাতা
- জানুয়ারি ২০২৬: ৬৫৫,৩৬৩ জন করদাতা
- ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ২৯৪,৯৮৭ জন করদাতা
- মার্চের প্রথম চার দিন: ৩৬,৭০০ জন করদাতা
এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রিটার্ন জমার হার সর্বোচ্চ ছিল, যা করদাতাদের মধ্যে সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রবণতা নির্দেশ করে।
লিঙ্গভিত্তিক ও আয় বিভাগের তথ্য
জমা দেওয়া রিটার্নগুলোর মধ্যে ২৮,৬৬,৬১৮ জন পুরুষ এবং ১১,৩৬,০০৩ জন নারী করদাতা রয়েছেন। আয় বিভাগের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, বেতন বিভাগে আয় দেখিয়েছেন ১৬,১০,৭৫০ জন পুরুষ এবং ৪,৭৮,৫৬৬ জন নারী করদাতা।
এছাড়াও, সম্পদ, বাড়িভাড়া এবং করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন আয় বিভাগে করদাতাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে, ৩৯,৩৬৩ জন পুরুষ এবং ১১,০৬৫ জন নারী করদাতা ইতিমধ্যেই সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।
ই-রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা ও ব্যতিক্রম
এনবিআর-এর একটি বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, অনলাইন রিটার্ন জমা দেওয়া সকল শ্রেণির করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
- ৬৫ বছর以上的 বয়স্ক করদাতা
- শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা
- বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি করদাতা
- মৃত করদাতার আইনী প্রতিনিধি
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি করদাতারা ইমেইলে প্রাপ্ত ওটিপি এবং নিবন্ধন লিংকের মাধ্যমে সহজেই ই-রিটার্ন জমা দিতে পারেন। একইভাবে, করদাতার পক্ষে অনুমোদিত প্রতিনিধিও একই পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
ই-রিটার্ন সিস্টেমের সুবিধা ও সংশোধনের প্রক্রিয়া
করদাতারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে সরাসরি তাদের আয়, ব্যয়, সম্পদ এবং দায়বদ্ধতা প্রবেশ করিয়ে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে কর পরিশোধ করতে পারেন। জমা দেওয়া রিটার্নে কোনো ভুল থাকলে, তা ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত ফর্মে জমা দেওয়া যায়। ইতিমধ্যেই ৫৬,০০০-এর বেশি করদাতা সংশোধিত রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
সহায়তা ও শেষ তারিখ
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে, এনবিআর কল সেন্টারে ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়াও, ওয়েবসাইট www.etaxnbr.gov.bd-এর মাধ্যমে লিখিত সমাধান পাওয়া যায় এবং দেশের সকল কর অঞ্চলে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্কে সরাসরি সেবা উপলব্ধ রয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, সকল করদাতাকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতাদের জন্য জরিমানা এড়ানো সম্ভব হবে।
