আয়কর রিটার্ন জমার সময় শেষ, অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ আগামীকাল ও শনিবার
আয়কর রিটার্ন জমার সময় শেষ, অনলাইনে সুযোগ আগামীকাল ও শনিবার

আয়কর রিটার্ন জমার সময় শেষ, অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ আগামীকাল ও শনিবার

কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর আগামী শনিবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার ও পরশু সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অফিস–আদালত সব বন্ধ থাকবে। তবে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এ বছর প্রায় সব করদাতাকে আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দিতে হবে। তাই আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

সময় বাড়ার সম্ভাবনা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক মাস বাড়তে পারে। সময় বাড়ানো হলে যে কোনো সময় আদেশ জারি হতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে টিআইএনধারীদের রিটার্ন দিতে হয়। এনবিআরের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি

সব করদাতাকে রিটার্ন দিতে হলে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে জমা দিতে হবে। এ জন্য প্রথমে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নেওয়ার জন্য একটি নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর প্রয়োজন। যাঁরা দেশের বাইরে থাকেন, তাঁদের ই–মেইলের মাধ্যমে নিবন্ধনের ওটিপি দেওয়া হয়। নিবন্ধন নিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

রিটার্ন ফরম পূরণের নিয়ম

অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় আয়কর ফরমের বিভিন্ন অংশ পূরণ করতে হয়। বছরের আয়–ব্যয়ের হিসাব দিতে হয়। এরপর করমুক্ত আয়ের সীমা বাদ দিয়ে করের হিসাব করতে হবে। যদি বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়া যায়, তা–ও গণনায় আনতে হবে। এ ছাড়া কোনো খাতে করে ছাড় থাকলেও তা বিবেচনায় আনতে হবে।

আয়–ব্যয়ের পাশাপাশি সম্পদের বিবরণীও দিতে হবে। এ জন্য ৫০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ থাকতে হবে। বাড়ি ও গাড়ি থাকলেও সম্পদের বিবরণী দেওয়া লাগবে।

অনলাইনে কর পরিশোধের উপায়

অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় ঘরে বসেই কর দিতে পারবেন। যেমন:

  • ব্যাংক ট্রান্সফার
  • ডেবিট কার্ড
  • ক্রেডিট কার্ড
  • বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

যেসব কাগজপত্রের তথ্য লাগবে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:

  1. বেতন খাতের আয়ের দলিল
  2. সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ
  3. ভাড়ার চুক্তিপত্র
  4. পৌর করের রসিদ
  5. বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ
  6. মূলধনি সম্পদের বিক্রয় বা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ
  7. মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র
  8. শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট ও সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের জন্য কাগজপত্র

বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতে চাইলেও কিছু কাগজপত্রের তথ্য লাগবে। যেমন:

  • জীবনবিমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ
  • ভবিষ্য তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ
  • ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র
  • ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ
  • কল্যাণ তহবিলের চাঁদা ও গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ
  • জাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ ইত্যাদি