দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সংসদে মন্ত্রীর ঘোষণা
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চূড়ান্ত কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ পরিকল্পনা, নির্মাণ ও বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বর্তমানে চূড়ান্ত কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ধাপ, যেখানে প্রতিটি কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সব ধরনের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব শক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আরও বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও সক্ষমতা
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। পাশাপাশি কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়াবে, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতেও সহায়ক হবে।



