জ্বালানি সংকটে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ: ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসন ও ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি ফেরাতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি মাসের গড় বিক্রির ওপর ভিত্তি করে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।
সরবরাহ বৃদ্ধির নির্দেশনা
জানা গেছে, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং বর্তমান চাহিদা বিবেচনা করে সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে বিপিসির তিন বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে বর্ধিত হারে তেল সরবরাহের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখা থেকে জারি করা এই নির্দেশনার ফলে সোমবার থেকে দৈনিক ১৩ হাজার ৪৮ টন ডিজেল, ১ হাজার ৫১১ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ৪২২ টন অকটেন বাজারে সরবরাহ করা হবে।
এর আগে ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন ডিজেল ১১ হাজার ৮৬২ টন, অকটেন ১ হাজার ১৮৫ টন ও পেট্রোল ১ হাজার ৩৭৪ টন সরবরাহ করা হতো। নতুন সিদ্ধান্তে সরবরাহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিক্রি পরিসংখ্যান ও বাজার পরিস্থিতি
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ১৮৮ টন জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ডিজেলের, যার পরিমাণ ২ লাখ ৮২২ টন। একই সময়ে পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৫৫৫ টন এবং অকটেন ২০ হাজার ৪১২ টন।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বিক্রির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, গত ১৮ এপ্রিল এক দিনেই দেশে ১২ হাজার ১৩১ টন ডিজেল বিক্রি হয়েছিল, যা চাহিদার তীব্রতা নির্দেশ করে।
দাম পুনর্নির্ধারণ ও সরকারের ব্যাখ্যা
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গত শনিবার রাতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দাম কিছুটা সমন্বয় করতে হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পদক্ষেপগুলি ভোক্তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আশা করা হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে বাজারের অস্থিরতা কমবে এবং ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে, বিশ্ববাজারের অবস্থা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আরও নজরদারি ও সমন্বয় প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।



