জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম: মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, ইরানের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
এর আগে, ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ যদি বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ক্রিস রাইট এই সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আমরা এখন সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং এই সমস্যার সমাধানের দিকেই বেশি মনোযোগী।'
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার আরেক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারে পাহারা দিতে পারছে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার 'বেশ সম্ভাবনা' রয়েছে।
ইরানের ঘোষণা ও বিশ্ববাজারের প্রভাব
ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা না থামালে জ্বালানি পরিবহনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার ফলে প্রণালিটি ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে এবং পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বে ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল থাকা জ্বালানি তেলের বাজার ও শেয়ারবাজার আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্রিস রাইটের মন্তব্যে স্পষ্ট যে, মার্কিন সরকার বর্তমানে সামরিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করছে। তিনি বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন, যদিও ইরানের হুঁশিয়ারি বাজারকে নাড়া দিতে পারে। এই সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
