ডিসেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মন্ত্রীর ঘোষণা ও সময়সীমা
বিকালে পরিকল্পনা কমিশনে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী ৭ এপ্রিল এই কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফুয়েল লোডিং’ শুরু হবে।
ফুয়েল লোডিং প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জুন-জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের শুরু থেকেই এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, তবে পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ প্রথম ইউনিটের পুরো ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আগামী ডিসেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত সরবরাহ করা যাবে।
পর্যায়ক্রমে বাড়বে বিদ্যুতের পরিমাণ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পরীক্ষামূলক চালুর সময় কেন্দ্রটি সরাসরি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো হয় না। ফলে জুন-জুলাই মাসে উৎপাদন শুরুর পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। ডিসেম্বরে ১২০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর আগে বিভিন্ন পরিমাণে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্রটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
