ঈদে লঞ্চে জ্বালানি সংকট: মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিল মালিকরা
ঈদে লঞ্চে জ্বালানি সংকট, মন্ত্রীর কাছে চিঠি

ঈদে লঞ্চে জ্বালানি সংকট: মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিল মালিকরা

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছে লঞ্চ মালিকরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি এই চিঠি পাঠান, যাতে ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঈদে লঞ্চ চলাচল ও জ্বালানি চাহিদা

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা নদীবন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় ১৪০টি লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে। বিভিন্ন নৌপথে জ্বালানি তেলের চাহিদার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে:

  • ঢাকা-বরিশাল নৌপথ: পাঁচটি লঞ্চ চলাচল করে, যার প্রতিটিতে গড়ে ৭ হাজার লিটার জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়।
  • পটুয়াখালী নৌপথ: পাঁচটি লঞ্চ পরিচালিত হয়, প্রতিটির জন্য গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে।
  • বেতুয়া রুট: তিনটি লঞ্চ চলাচল করে, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়।

এভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা তৈরি হয়, যা ঈদের সময়ে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহে অভিযোগ ও উদ্বেগ

লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঢাকা নদীবন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না। এছাড়াও, নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল এবং চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোতেও জ্বালানি তেলের অপর্যাপ্ত সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীকে জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। লঞ্চ মালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জ্বালানি সংকটের কারণে ঈদের সময়ে যাত্রী পরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা জনসাধারণের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করবে।

এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা উল্লেখ করেছেন যে, ঈদের সময়ে লঞ্চ যাত্রার চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়, তাই জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, লঞ্চ মালিকরা আশা করছেন যে, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই সংকট দ্রুত সমাধান হবে এবং ঈদ যাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।