মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্বালানি সহায়তা চাইল বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়তা চেয়েছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্র সচিবের সাথে বৈঠক
মন্ত্রী বাংলাদেশ সচিবালয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিব পল কাপুরের সাথে এক বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চিন্তিত। সরকার মসৃণ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
জ্বালানি সহায়তার অনুরোধ ও মার্কিন প্রতিশ্রুতি
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিব তাকে বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জ্বালানি ব্যবহার কমানো গেলে ঈদ বা মার্চ পর্যন্ত বিদ্যমান মজুদ দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু দেশে হঠাৎ করে ডিজেলের বিক্রি বেড়ে গেছে।
জ্বালানি পাচার রোধ ও সাশ্রয়ের আহ্বান
মন্ত্রী আরও জানান, জ্বালানি পাচার রোধে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিজিবি) সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারেরও আহ্বান জানান। তার মতে, শপিং মল ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় আলোর ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
এছাড়া তিনি ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন। সরকারের এই পদক্ষেপগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
