বিদ্যুৎমন্ত্রীর সতর্কবার্তা: সাশ্রয়ী হলে মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি দেশের জনগণ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয়, তাহলে মার্চ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব হবে। তিনি আজ বুধবার সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
জ্বালানি সরবরাহ ধীরগতির এবং বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উল্লেখ করেন, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ ধীরগতির হয়ে পড়েছে, যা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, "জ্বালানি না থাকলে বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে? জ্বালানিসংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা তো কঠিন।" তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, লোডশেডিং হলেও তা অসহনীয় পর্যায়ে যাবে না, যদিও কিছুটা গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে।
এই সংকটের পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও বড় বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বাজারে সবাই এখন জ্বালানি সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় আছে।" খোলাবাজার থেকে বাড়তি জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, তাই সংকট ব্যবস্থাপনা এখন প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঈদের সময় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ এবং গ্যাস রেশনিং
বিদ্যুৎমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, ইফতার থেকে তারাবিহ পর্যন্ত এবং সাহরির সময় লোডশেডিং হবে না, যা রমজান মাসে জনগণের জন্য স্বস্তির খবর। তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটির সময়ে শিল্পকারখানার কার্যক্রম কমে গেলে বিদ্যুতের চাহিদাও কমবে, ফলে চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে।
এছাড়াও, বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ রেশনিং করা হবে বলে জানান তিনি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়েছে।
ডিজেল পাচার রোধে নজরদারি বৃদ্ধি
দেশে হঠাৎ করে ডিজেল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে দাম বেশি থাকায় কিছু পরিমাণ ডিজেল পাচার হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে:
- সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
- জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।
- প্রয়োজনে সীমান্ত অঞ্চলে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় বিক্রি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
সাশ্রয়ী ব্যবহারে সরকারি প্রচার এবং নির্দেশনা
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার শুরু করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, "এ সংকটের সময় শপিংমলে আলোকসজ্জা করা উচিত নয়।" যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্ব সমস্যায় রয়েছে, তাই জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শেষে জোর দিয়ে বলেন, "সবাই সহযোগিতা না করলে বিরাট সংকট থেকে উত্তরণ করা কঠিন। যা আছে, তার সাশ্রয়ী ব্যবহার করতে হবে। সবাই সাশ্রয়ী হলে চালিয়ে নেওয়া যাবে।" এই আহ্বানের মাধ্যমে তিনি জাতীয় সংহতি ও দায়িত্বশীলতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
