মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির রবিবার বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে চলা অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং তাৎক্ষণিক কোনো উদ্বেগের বিষয় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
সরকারের প্রস্তুতি ও মজুদ পরিস্থিতি
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এ তথ্য দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "বর্তমান মজুদ নিয়ে আমাদের কোনো বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমরা আগেও অনুরূপ সংকট মোকাবেলা করেছি। জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু ওঠানামা হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত। অতিরিক্ত চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই।"
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সহায়তা প্রদান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি বিমানমন্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন বলে জানান কবির।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সহায়তা
"আমরা সঠিকভাবে সমন্বয় করছি যাতে আমাদের কোনো নাগরিকই সংকটে না পড়েন—সেটা দেশে অপেক্ষমাণ ব্যক্তি হোন বা বিদেশে অবস্থানরত যারা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে চিন্তিত হতে পারেন," বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি যোগ করেন যে বাংলাদেশ কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত প্রশমনের পক্ষপাতী এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানায়।
সরকার ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সকল কর্মীদের সহায়তা প্রদান করছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। গন্তব্য দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ রেখে এসব বিষয় সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। পূর্ববর্তী সংকটকালীন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার এবারও প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের জ্বালানি মজুদ ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট শক্তিশালী বলে দাবি করা হচ্ছে।
হুমায়ুন কবিরের এই বক্তব্যে সরকারের সতর্কতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
