সিলেটে টানা ৯ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা: রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার লোডশেডিং
সিলেটের বেশ কিছু এলাকায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কাটার সুবিধার্থে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ থেকে গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সময়সূচি ও প্রভাবিত এলাকাসমূহ
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাক্কাতুরা স্টেডিয়াম ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন ফিডারগুলোর অধীনে থাকা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, লাক্কাতুরা উপকেন্দ্রের অধীনে থাকা ১১ কেভি ঘোপাশাল ফিডার, ১১ কেভি কাকুয়ারপাড় ফিডার এবং ১১ কেভি ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস ফিডারের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে এই লোডশেডিং কার্যকর হবে।
এর ফলে ওসমানী বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকা, কাকুয়ারপাড়, সিলেট ক্লাব, ফরিদাবাদ হাউজিং, অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড ও আবদানী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া বড়শালা বাজার মসজিদের পাশের আংশিক এলাকা, পর্যটন কেন্দ্র, ফরিণাবাদ, সিলভার সিটি এবং কেওয়াছড়া ও হিলুয়াছড়া চা-বাগান এলাকায় শনিবার দিনের বেলা বিদ্যুৎ সেবা মিলবে না।
মেরামত কাজের বিস্তারিত তালিকা
মেরামত কাজের এই তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ঘোপাশাল, মহালদিক, উমদারপাড়া, আলাইবহর, লিলাপাড়া, দাপনাটিলা, সাহেবের বাজার, কালাহল, লালবাগ, পীরগাঁও, ছালিয়া, রতিলিলা, সালুটিকর ঘাট ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলো। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার এই সূচির ফলে এসব অঞ্চলের আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের আগাম সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিউবো কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও পরামর্শ
তবে মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করে দেওয়া হতে পারে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। মূলত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটি এড়াতেই এই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
গ্রাহকদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
