বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রেখে জনগণের কল্যাণে সরকারের প্রচেষ্টা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়েই সাধারণ মানুষকে লাভবান করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী টুকু। তিনি উল্লেখ করেন, একটি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যেই তিনি জ্বালানি খাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাতারাতি সবকিছু ঠিক করা সম্ভব নয় এবং এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে।
সাবেক সরকারের সমালোচনা ও ঋণের বোঝা
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার আড়ালে জনগণের ওপর বড় অঙ্কের ঋণের দায় রেখে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হয়তো অনেকে বলবেন, আগের সময় ব্ল্যাক আউট ছিল, আর এখন আলো জ্বলছে। কিন্তু এই আলোর পেছনে জনগণের ওপর ঋণের পাহাড় রেখে যাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, কষ্ট করে থাকা ভালো কিন্তু ঋণের বোঝা বয়ে বেড়ানো ঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, তিনি জনগণের ওপর ঋণের দায় রেখে যাননি।
দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, একাধিক তদন্ত বা কমিশন গঠন করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার চরিত্র হনন করা হয়েছে। ভুল সাংবাদিকতার কারণে তার পরিবারকে ভিকটিম হতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি খাতের আর্থিক সংকট ও লক্ষ্য
জ্বালানি খাতের আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের ওপর অনেক ঋণের দায় রয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারছেন না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে রাষ্ট্র ঋণের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে এবং সাধারণ জনগণ সরাসরি উপকৃত হয়। তিনি আরও জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জ্বালানি খাতের প্রতিটি স্তরে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী টুকুর এই বক্তব্য সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আর্থিক সুরক্ষার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
