এলপিজির মাত্রাতিরিক্ত দাম কমানোর জোর দাবি এনসিপি নেতা আখতারের
এলপিজির মাত্রাতিরিক্ত দাম কমানোর দাবি এনসিপি নেতার

এলপিজির মাত্রাতিরিক্ত দাম কমানোর জোর দাবি এনসিপি নেতা আখতারের

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) মাত্রাতিরিক্ত দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের ১৮তম দিনে ৭১ নম্বর বিধিতে দাঁড়িয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন।

বৈশ্বিক সংকট ও দেশীয় অসাধুতার অভিযোগ

এনসিপি নেতা আখতার হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট থাকলেও দেশে কৃত্রিম উপায়ে সংকট তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপগুলো এখনো অস্পষ্ট এবং অপর্যাপ্ত।" হঠাৎ করে এলপিজির দাম বাড়ানোয় রান্নাবান্নার কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক বিপাকে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশীয় অসাধু চক্রের মজুতদারি এবং প্রশাসনের শিথিলতাকে দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার পার্থক্য

আখতার হোসেন আরও বলেন, "সরকার পূর্বে আশ্বাস দিয়েছিল যে জ্বালানির দাম বাড়বে না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্রাতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।" জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে এলপিজিসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম কমিয়ে একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে তিনি জোর দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কার্যকর ও দৃঢ় ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন। জামায়াত জোটের এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন।

জনগণের উপর প্রভাব ও সমাধানের আহ্বান

এলপিজির দাম বৃদ্ধি শুধুমাত্র গৃহস্থালি কাজেই নয়, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন খরচও বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আখতার হোসেনের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন:

  • মজুতদারি বন্ধে কঠোর নজরদারি
  • দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক সক্রিয়তা
  • আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়
  • সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা কর্মসূচি

জাতীয় সংসদে তার এই বক্তব্য জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় জ্বালানি দাম কমানো এখন একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা দিয়েছে।